ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বাকৃবির দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা করে না: জরিপ

Link Copied!

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা করে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত সকালের নাস্তা করে। ছাত্রীদের মধ্যে সকালে ফল খাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। প্রায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাত্রী নিয়মিত ফল খায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার এ তথ্য তুলে ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয়, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিগত অবস্থা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৪১ শতাংশ ছাত্রী ছিল।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দুপুর ও রাতের খাবারের চিত্রও উদ্বেগজনক। অনেক শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবারে কোনো প্রাণিজ প্রোটিন থাকে না; তারা মূলত ডাল, ভর্তা ও সবজি দিয়েই দুপুরের খাবার সম্পন্ন করে। প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুপুরের খাবার এবং প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত রাতের খাবারও গ্রহণ করে না। মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর রাতের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে।

প্রোটিন ও ফল গ্রহণের বিষয়ে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ৫টি ডিম খায়, যা প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে একদিনও ফল খাওয়ার সুযোগ পায় না। যারা ফল খায়, তাদের অধিকাংশই কলা ও মৌসুমি ফলের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত দুধ পান করে, অথচ ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একেবারেই দুধ পান করে না। অন্যদিকে কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস গ্রহণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

জরিপে আরও দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থী মাসে গড়ে ৪ হাজার ১০০ টাকা খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহ করতে অনেক শিক্ষার্থীকে টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। শিক্ষার্থীদের ৬৪ শতাংশের বিএমআই স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকলেও ছাত্রীদের মধ্যে কম ওজনের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। প্রায় ৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্থূলতার লক্ষণও পাওয়া গেছে।

সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খামারগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তুকি মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার থেকে দুধ, ডিম, মাংস ও ফল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী খামারে ইন্টার্ন বা কর্মী হিসেবে কাজ করার বিনিময়ে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, আবাসিক হলের খাবারে বৈচিত্র্য আনা, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদিত পণ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য করা গেলে তাদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও সুস্থ থাকবে, পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ, সুস্থ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. জাভিদুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খামারগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার দরকার। একই সঙ্গে মূল প্রবন্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।