প্রাণিখাদ্য শিল্পের জন্য ফিড অ্যাডিটিভ ও পুষ্টি সমাধান উন্নয়নকারী জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বায়োকেম (Biochem) তাদের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে জার্মানির লোনে (Lohne) শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি গত চার দশকের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং টেকসই প্রাণিপুষ্টি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তুলে ধরে।
১৯৮৬ সালে জার্মানির লোনেতে একহার্ড থোলকে (Eckhard Thölke) বায়োকেম প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি আঞ্চলিক পর্যায়ে কৃষি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় ৪০০ জন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি সমন্বিত প্রাণিপুষ্টি সমাধান দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৯ সালে আধুনিক লজিস্টিকস সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর ২০১৫, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে উৎপাদন সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হয়। চলতি বছর জৈব ট্রেস মিনারেল খাতে দক্ষতা আরও জোরদার করতে BASF-এর গ্লাইসিনেট (Glycinate) ব্যবসা অধিগ্রহণ করেছে বায়োকেম।
অনুষ্ঠানে বায়োকেমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. আলেকজান্ডার গ্রাফে বলেন, “১৯৮৬ সাল থেকে আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক এমন সমাধান উন্নয়নে কাজ করছি, যা পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। ‘Feed Safety for Food Safety®’ দর্শনের মাধ্যমে আমরা এমন প্রাণিখাদ্য সমাধান তৈরি করি, যা সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং উৎপাদনের শুরুতেই নির্গমন কমাতে সহায়তা করে।”
তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বায়োকেম বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সর্বোত্তম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও টেকসই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন, প্রাণিকল্যাণ এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা পূরণে সমন্বিত সমাধান উদ্ভাবনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
বায়োকেমের মতে, প্রাণিখাদ্যের নিরাপত্তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্য জার্মানিতে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের আওতায় গবেষণা ও উন্নয়ন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি প্রাণিপুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেমন অন্ত্রের স্বাস্থ্য, খাদ্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জীবনপর্যায়ে পুষ্টি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, জলজ প্রাণী এবং পোষা প্রাণীর জন্য প্রোবায়োটিক, জৈব অ্যাসিড, এনজাইম, মাইকোটক্সিন বাইন্ডার এবং জৈব ট্রেস মিনারেলসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করছে।
বিশেষ করে পোলট্রি ও দুগ্ধ খামারের জন্য প্রজাতিভিত্তিক পুষ্টি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বায়োকেম। বাচ্চা মুরগির প্রাথমিক বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ গাভীর ট্রানজিশন পিরিয়ড ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিশেষ পুষ্টি সমাধান উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪০ বছরের সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, সমন্বিত পণ্যসেবা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমাধান। ভবিষ্যতেও টেকসই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন এবং প্রাণিকল্যাণে নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও পুষ্টি সমাধান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


