গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্য সচিব ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অফিস আদেশে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট তার পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তার বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, তিনি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাতেমা খাতুনকে ২৩ জুন ২০২৬ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার দ্বারা গৃহীত অর্থ বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।


