ঢাকাশুক্রবার , ৬ নভেম্বর ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল ও ছাদ ধসের অভিযোগ, ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অবকাঠামোগত সংকট এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান বন্ধ রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত বছর ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সে সময় পুরো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনটি পরিদর্শন করানো হয়েছে এবং সেখানে ক্লাস পরিচালনায় কোনো ঝুঁকি নেই।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ঘটনার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ভবনটির প্রথম তলার ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষের সিলিংয়ের ঢালাই খসে পড়ে। এতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬২তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাবের একটি পিলারের চারপাশে ফাটল তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব স্থানে শুধু প্লাস্টার করা হচ্ছে, যা ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আরও উদ্বেগ তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ভবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি লিখিত কারিগরি প্রতিবেদন চাওয়া হলেও বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দিতে ব্যর্থ হয় এবং আরও সময় চায়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের একটি কক্ষেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

ভবনের নিরাপত্তা ছাড়াও দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও একাডেমিক সমস্যা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনের প্রজেক্টর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এসি) অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলোও অনেক পুরোনো প্রজন্মের। শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব ও লাইব্রেরির সুবিধা অপ্রতুল। পাশাপাশি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতিও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতি সেমিস্টারে কোর্স ফি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি পরিশোধের নিয়ম নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাদের। ক্লাস শুরুর পরপরই সেমিস্টার ফির ৪০ শতাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারলে উপস্থিতি (অ্যাটেনডেন্স) বন্ধ করে দেওয়া এবং জরিমানা আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসেবা শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে পরিবহনসেবা আরও সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ল্যাব সুবিধা উন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব ফি নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবহনসেবার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ক্লাস বর্জন ও রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান বন্ধ রেখেছেন।

তাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।