ঢাকাশনিবার , ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বিশ্ব খাদ্য দিবস: টেকসই কৃষি, জলবায়ু সংকট ও বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগের প্রতিফলন

সংবাদ লাইভ
অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কৃষিবিদ মো মানসুর রহমান: ১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি সুনিশ্চিতকরণ এবং কৃষির সার্বিক উন্নয়নের নতুন অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। তবে এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস এমন এক প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের লক্ষ্য কেবল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রাখা নয়, বরং একটি টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।

​বৈশ্বিক পেক্ষাপট: বৈষম্য ও বন্টন সংকট
​জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুসারে, বিশ্বজুড়ে বর্তমান জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় মোট খাদ্য উৎপাদন কম নয়। তা সত্ত্বেও কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধা ও অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এর মূল কারণ উৎপাদনের ঘাটতি অপেক্ষা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রতিবন্ধকতা, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, অতিরিক্ত খাদ্য অপচয় এবং বৈষম্যমূলক বণ্টন ব্যবস্থা।

​বাংলাদেশের সাফল্য: সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ অবদান
​সীমিত আবাদি জমি এবং উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের দেশে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করা একটি অভাবনীয় বিস্ময়। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে ধান ও দানাদার খাদ্য উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। এই ঐতিহাসিক অর্জনে সরকারের দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সিড কোম্পানি এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

​১. বাংলাদেশ সরকারের যুগান্তকারী নীতিমালা ও সমর্থন

​গবেষণা ও বীজ উদ্ভাবন: সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (BRRI, BARI, BINA) মাধ্যমে লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ১০০টিরও বেশি আধুনিক জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

​ভর্তুকি ও প্রণোদনা: সার, সেচ ও বীজসহ সার্বিক কৃষি উপকরণে নিরবচ্ছিন্ন ভর্তুকি প্রদানের পাশাপাশি ‘কৃষি কার্ড’ ও সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

​কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: কম্বাইন হারভেস্টার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের ওপর ৫০%–৭০% পর্যন্ত সরকারি উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে।
​২. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের বৈপ্লবিক ভূমিকা
​মানসম্মত বীজ ও এগ্রো-ইনপুট: বায়ার বাংলাদেশ,সিনজেন্টা, লাল তীর, এসিআই (ACI), স্কয়ার, কাজী ফার্মসসহ শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এগ্রো-কোম্পানিগুলো উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজ, পুষ্টিকর সবজি বীজ এবং আধুনিক বালাইনাশক ও জৈব সার কৃষকদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছে।

​পোল্ট্রি, ডেইরি ও অ্যাকুয়াকালচার বিপ্লব: দেশে ডিম, মাংস ও মাছ উৎপাদনে স্বয়ংস্ফীতি অর্জনে বেসরকারি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাণিজ্যিক পোল্ট্রি ফার্ম, আধুনিক হ্যাচারি এবং বায়োফ্লক/পুকুরে আধুনিক মৎস্য চাষ খাদ্য তালিকায় প্রাণিজ প্রোটিনের জোগান নিশ্চিত করেছে।

​ক্ষুদ্র ঋণ ও গ্রামীণ সামাজিক নিরাপত্তা: ব্র্যাক (BRAC), গ্রামীণ ব্যাংক, আশা (ASA) সহ অন্যান্য এনজিও ক্ষুদ্রকৃষক ও প্রান্তিক নারীদের সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, দুগ্ধ খামার স্থাপন এবং সরাসরি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করেছে।

​কৃষি প্রযুক্তি startup ও সাপ্লাই চেইন:ফার্ম রাইজ এ্যাপ্স এর মাধ্যমে সঠিক পণ্য যাচাই এবং আবহাওয়া পূর্বাভাস, ‘আইফার্মার’ (iFarmer), ‘ফসলী’র মতো নতুন এগ্রো-টেক স্টার্টআপগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে কৃষকের অর্থায়ন ও সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রির আধুনিক সংযোগ তৈরি করছে।
​বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও আগামী দিনের করণীয়
​সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, দ্রুত আবাদি জমি হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সার-জ্বালানির উচ্চমূল্য কৃষিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন আমাদের আসল লক্ষ্য ‘পেট ভরা ক্যালরি’র পাশাপাশি ‘পুষ্টি নিরাপত্তা’ ও ‘নিরাপদ খাদ্য’ সুনিশ্চিত করা।

​ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যা প্রয়োজন:
​স্মার্ট ও প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার: ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সরভিত্তিক সেচ এবং সয়েল-স্পেসিফিক সার প্রয়োগের আধুনিক প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া।

​কোল্ড চেইন ও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি: শাকসবজি ও ফলমূলের ২৫–৩০% পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমাতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে (PPP) হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা।
​ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল মার্কেট: কৃষকের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত সরাসরি ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা।

​শেষ কথা
​খাদ্য মৌলিক মানবাধিকার—কোনো বিলাসিতা নয়। গবেষণাগার ও করপোরেট খাতের উদ্ভাবন যেন কোনো বিলম্ব ছাড়াই মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে পৌঁছায়, বিশ্ব খাদ্য দিবসে একজন কৃষিবিদ হিসেবে এটাই হওয়া উচিত আমাদের মূল অঙ্গীকার। সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষকের সুসংহত অংশীদারিত্বই পারে বাংলাদেশকে আগামীতে একটি ক্ষুধা ও অপুষ্টিমুক্ত টেকসই দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।