ads
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ মে ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

চল্লিশ বছর পর হারানো প্রেম ফিরে এলো, একাকীত্ব তখনও রয়ে গেল

ডা: এম. এ. মোমেন:
মে ১৪, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডা: এম. এ. মোমেন:  ৬১ বছর বয়সে আমি আমার প্রথম প্রেমের সাথে আবার বিয়ে করলাম। কিন্তু বিয়ের প্রথম দিন যখন আমার নববিবাহিত স্ত্রী তার পড়নের কাপড় বদলাচ্ছিল তখন নিজ নয়নে যা দেখলাম তাতে আমি কিছু ক্ষনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম এবং মন থেকে ভেঙ্গেও পড়লাম। আমার নাম সেলিম চৌধুরী আর বর্তমান বয়স ৬১ বছর। ইতোমধ্যে আমার স্ত্রী না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া আমার প্রথম পক্ষের সব সন্তানই বিয়ে করে যার যার মত করে নিজের সংসার গড়ে নিয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিজ নিজ বাসায় স্বাধীনভাবে বসবাস করছে। তারা মাসের প্রথমে এসে আমার জন্য কিছু টাকা আর ঔষধ আমার বাসার প্রহরীর কাছে রেখে দিয়ে তাড়াতাড়ি আবার নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। তাতে আমি তাদের তেমন কোন দোষ দেই না। তারা নব-যৌবনা, তাদের নিজস্ব জীবন আছে আমি বুঝি। কিন্তু একা থাকার কারণে বৃষ্টির রাতে যখন টিনের চালে বৃষ্টির ফোটা পড়ার শব্দ কানে আসে তখন অতীতের কথা মনে পড়ে যায় আমি নিজেকে অসহ্য রকমের ছোট আর ভীষন একা অনুভব করি। সেই সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখাসহ অবুঝ মনকে স্থির রাখার জন্য মোবাইলে ফেইজবুক আর ইউটিউব দেখতে থাকি।

এইরূপভাবে ফেইজবুক দেখতে দেখতে এক বৃষ্টি ভিজা বিকালে হঠাৎ আমার সামনে কুসুমের প্রোফাইল চলে এলো সে ছিল আমার বিদ্যালয় জীবনে অর্থাৎ প্রথম প্রেম। তখন আমি তাকে মন থেকে অবুঝের মত ভালোবাসতাম। তার লম্বা দেহ, দুধে আলতা গায়ের রঙ, মাথায় ঢেউ খেলানো কালো লম্বা চুল, গভীর বাদামী চোখ আর রাঙ্গা ঠোটে এমন হাসি যা পুরো ক্লাসকে আলোকিত করে দিত। তাছাড়া বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে তার প্রতি কোন পথচারী বা যুবকের চোখ পড়লে পুন:রায় পিছন ফিরে তাকায় নাই অত্র এলাকায় এমন যুবক পাওয়া ভার। আমার ভালোবাসাকে গ্রামে একা রেখে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরীর সুবাদে বোনের বাসা ঢাকায় চলে আসলাম তখনই তার পরিবার থেকে মুরাদনগর উপজেলার আওতাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামের এক ধনাট্য ব্যবসায়ী ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দিল।

প্রথম প্রথম এই বিয়ে সে মন থেকে মেনে নিতে না পারলেও ক্রমান্বয়ে ধন দৌলতের মোহে এবং পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে অল্প সময়ের ব্যবধানে সে আমাকে ভুলে গিয়েছিল। তার স্বামী তার থেকে প্রায় ১৫ বছরের বড় ছিল। সেই সময় বর্তমানের মতো মোবাইলের প্রচলন ছিল না অত:পর আমাদের মাঝে যোগাযোগ অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। আমার চাকরী হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের চাপে প্রায় ছয় মাস পর অনেক কস্টে মন থেকে তাকে দুরে রেখে আমাকেও বিয়ে করতে হয়েছে। এরই মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে উভয়ের জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ঘটে গেছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর পুনরায় ৪০ বছর পর জীবনের শেষ বিকালে এসে আমরা আবার দু’জন দুজনকে নতুনভাবে আবিস্কার করলাম। দু’জন দু’জনার সাথে দেখা করলাম।

ইতোমধ্যে তার স্বামী না-ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় সেও তখন একা হয়ে গিয়েছিল। তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে অগত্যা স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণে সে তার ছোট ছেলের সাথে থাকতো। কিন্তু চাকরীর কারণে ছেলে অন্য শহরে থাকতো এবং মাকে সরাসরি দেখা আর তার ভালো-মন্দের বিষয়ে জানতে ছেলে গ্রামে কমই আসতো। দীর্ঘদিন পর দেখার শুরুতে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কুশল বিনিময় করতাম। তার কিছুদিন পর হতে মোবাইলে কথা বলা শুরু করলাম। অত:পর চা-কফি খাওয়ার অজুহাতে সরাসরি দেখা হতে লাগলো। প্রথম স্ত্রীর বিয়োগ ঘটার পর দীর্ঘদিন একা একা থাকার কারণে সৃষ্ট একাকীত্ব গোছানোর অভিপ্রায়ে অবুঝ মনের অজান্তেই আমি নিয়ম করে কয়েক দিন পর পর আমার স্কুটার নিয়ে তার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করলাম। একটা ছোট্ট ঝুড়িতে ফল কিছু মিষ্টি আর জয়েন্টের ব্যথার ওষুধ নিয়ে যেতাম। উভয়েই বয়বৃদ্ধ বিধায় সমাজের লোকেরা তেমন কিছু মনে করত না। তার বাড়িতে অনেক রাত অবদি প্রথম জীবনের ভালোবাসাকে হাড়িয়ে আমাদের জীবনে দীর্ঘ সময়ের ঘটে যাওয়া নানান প্রকার গল্প-গুজব, কথা-বার্তা চলত। দীর্ঘ সময়ের দুঃখের এবং কষ্টের কথা বলার সময় একদিন হঠাৎ মজা করে আমি বললাম আমিও একা আর তুমিও একা এই একাকীত্ব গোছানোর জন্য আমরা দু’জন বুড়ো হৃদয়ে যদি বিয়ে করে ফেলি তবে কেমন হয়? হয়তো আমাদের জীবনের একাকীত্ব শেষ হয়ে যাবে।

মজার ছলে এই কথা বলার পর আমি অবাক হয়ে দেখলাম তার চোখে জল এসে গেল। তার চোখে জল আসা দেখে আমি তাৎক্ষণিক কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে তাকে বোঝাতে লাগলাম তুমি কি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছো? আসলে এটা নিছক মজা ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে হালকা হেসে মাথা নাড়িয়ে আমার প্রস্তাবে সম্মতি জানালো। আর এভাবেই বিনা ঘটকালীতে ৬১ বছর বয়সে এসে আমি আবার নতুন করে বিয়ের পিড়িতে বসলাম এবং আমার প্রথম জীবনের ভালোবাসা কুসুমকে বিয়ে করলাম। আমার প্রথম প্রেম কুসুমের সাথে বিয়ের দিন আমি মার্ট বাদামী রংগের শেরওয়ানী পরে ছিলাম। আর সে সাদামাটা ক্রিম রঙের রেশমী শাড়ি পরেছিল। তার ঢেউ খেলানো লম্বা কালো চুল বয়সের কারণে যা বর্তমানে সাদা হয়ে গিয়েছিল সুন্দর করে বাঁধা ছিল যেমনটি বিদ্যালয়ে থাকাকালীন জীবনে বাঁধতো। এবং তাতে একটা ছোট মুক্তার ক্লিপ লাগানো ছিল যা আমি প্রায় ৪১ বছর পূর্বে বৈশাখী মেলা থেকে কিনে দিয়ে ছিলাম। বিয়েতে নিকট আত্নীয়, কাছের এবং দূরের বন্ধু-বান্ধব আর প্রতিবেশীরা উৎসব করতে এসেছিল। সবাই বলছিল তোমরা দু’জনে আবার যেন মনে হচ্ছে সেই স্কুল জীবনের যুবক-যুবতী, কপত-কপতি, প্রেমিক-প্রেমিকার মতো করে সেজেছো। আর সত্যি বলতে কি সেই মূহুর্তে আমারও আবার যুবক হয়ে যাওয়ার মত অনুভব হচ্ছিল। আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমন্ত্রিত সকলে চলে যাওয়ার পর সেই রাতে ভোজের ময়লা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা শেষ হতে রাত প্রায় ১১:০০ টা বেজে গিয়েছিল।

তখন আমি আর সে ছাড়া আর কেউ ছিল না। আমাদের বিয়েতে কেউ তেমন বাঁধা বা আপত্তি না করলে উভয় পরিবারের সকলে স্বাভাবিক বা খুসি ছিল বলে মনে হয়নি। স্বভাবই সবদিক সামলাতে এই বয়সে আমাদের উভয়ের উপর দিয়ে বেশ দখল গিয়েছে, ফলে তার ক্লান্তি দুর করার জন্য আমি তার জন্য দুধ গরম করে আনলাম। সদর দরজা বন্ধ করলাম এবং বারান্দার লাইটগুলি একে একে নিভিয়ে দিলাম। আমার জীবনে আজ নতুন করে বিয়ের রাত যেটা এই বয়সে আবার অনুভব করার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।

তাছাড়া দীর্ঘ ৪০ বৎসর পূর্বে যাকে এক অজানা স্রোতের মাঝে হাড়িয়ে ফেলে ছিলাম তাকে আবার বৃদ্ধ বয়সে এসে প্রেমিকা নয় সরাসরি স্ত্রী হিসেবে ফিরে পাব তা আমার কল্পনাতেও ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তাঁর অশেষ মহিমায় ও দয়ায় যাকে জীবনের ভোরের সূর্য্য উঠার আগেই হাড়িয়ে ফেলে ছিলাম শেষ বিকালে এসে নতুন রূপে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার পরিচয় আমার প্রেমিকা নয় স্ত্রী। সবার চলে যাওয়ার পর আলো জলমল কক্ষে যখন সে তার পরনের কাপড় বদলাচ্ছিল তখন আমি তার শরীরেল দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তার পিঠ, কাঁধ আর বাহুতে গভীর ক্ষতের চিহ্ন/দাগ আমার চোখে পড়ল। সেই দাগগুলি ছিল দীর্ঘদিনের পুরানো ক্ষতের কালো চিহ্ন। তার ত্বকের উপর নিপুন হাতের আঁকা একটা দুঃখজনক নকশার মত ছড়িয়ে ছিল। তার এই অবস্থা দেখে আমি স্থির থাকতে পারলাম না তাৎক্ষনিক আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেল। আমার দিকে চোখ পড়তেই সে তাড়াতাড়ি আমার নজর এড়াতে নিজের চারপাশে কম্বল জড়িয়ে নিল। কম্বল জড়িয়ে নেয়ার পরও তখন তার চোখে ভয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কুসুম এতোদিন তোমার সাথে কি হয়েছিল আমাকে তুমি খুলে বলবে প্লিস! সে লজ্জায় আমার দিকে ফিরলো, তার কন্ঠ ভারী হয়ে গেল। মৃদুকন্ঠে বলতে শুরু করল বিয়ের প্রথম দুই তিন বছর ভালই চলছিল। টাকা-পয়সা ধনদৌলত, ভালোবাসাও অটুট ছিল কিন্তু হঠাৎ কি যেন হয়ে গেল আমার স্বামী আর সেই মানুষটি রইল না কেমন যেন অচেনা হয়ে গেল। ক্রমান্বয়ে তার ব্যবসায় লোকসান হতে শুরু করল, ব্যবসায় লোকসানের দায় আমার উপর পরল যার ফলশ্রূতে সে কেমন যেন অত্যাচারি হয়ে গেল। তার স্বভাবও দিনে দিনে খারাপ হয়ে গেল।

সে বিনা কারণে চিৎকার করত, কারণে অকারণে সে আমার গায়ে হাত তুলতো তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য আমার পরিবারের কাউকে এই কথাগুলি বলিনি পাছে তারা কষ্ট পাবে বলে। তাছাড়া তুমি আমাকে এতো ভালোবাসতে কিন্তু পরিবারের সম্মানের ভয়ে তাদের অমতে গিয়ে তোমাকে বিয়ে করতে পারিনি এবং সংসারে অশান্তি হবে ভেবে ক্রমান্বয়ে তোমাকে ভুলার চেষ্টা করেছি তাই কষ্টের কথাগুলি তোমার সাথে শেয়ার করিনি অথচ সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় দীর্ঘতম দুঃখের সাগর পারি দিয়ে জীবনের শেষ বিকালে এসে আবার দু’জনার মিলন ঠিকই হলো। মাঝ পথে দীর্ঘ ৪০ টি বসন্ত দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে কেঁটে গেল। তারপরও যে আমাকে দুঃখ দিয়েছে তাকে দোষি না আমি এই দুঃখ আমার কপালে ছিল হয়তো। দুঃখের কথা শুনার পর আমি তার কাছে বসে পড়লাম হৃদয় শক্ত করে চেপে ধরে। চোখে জল যাকে মন-প্রাণ উজার করে দিয়ে একদিন ভালোবেসে ছিলাম, তাকে আনন্দে রাখার জন্য শত চেষ্টা করতাম। আজ তার দুঃখের কথা শুনে আমার আত্না যন্ত্রণায় ভরে গেল। সে আমাকে ছেড়ে কয়েক দশক ধরে ভয় আর লজ্জায় চুপ করে অবর্ণনিয় অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেছিল। তার কাছের বা দুরের একজন মানুষকেও কিছু বলেনি। অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কারো কাছে বিন্দুমাত্র সাহায্যও চায়নি। পরিবারের শান্তি, তার ও তার স্বামীর আনন্দের ফসল ছেলে-মেয়েদের মানুষ করার জন্য নিরবে সকল অত্যাচার সহ্য করে গেছে দীর্ঘদিন। আমি তার হাত ধরে আমার বুকের ওপর রাখলাম। এখন সব ঠিক আছে, আজ থেকে আর কেউ তোমাকে  আঘাত করবে না।

তোমাকে কষ্ট দেওয়ার কারো অধিকার নাই। আজ থেকে তুমি শুধুই আমার। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসতাম এবং এখনও পূর্বের ন্যায় ভালোবাসি। আগেও মন-প্রাণ উজার করে ভালোবাসতাম এখনও বাসি কিন্তু এক অজানা দমকা হাওয়া এসে এক জটকায় দু’জনের জীবন দু’মেরুতে দাড় করিয়ে ছিল। তাতে হয়তো আমাদের কারো হাত ছিল না তথাপি দীর্ঘ দিন পরে হলেও আবার আমাদের মিলনের সুযোগ এসেছে এই সুযোগ আর অবহেলা করে নষ্ট করতে চাই না। আমার আবেগময় কথা শুনে সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। এই কাঁন্না হয়তো দুঃখের নয় সুখের। তার কাঁপা কাঁন্নার শব্দ ঘর ভরে গেল। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তার পিষ্ঠ নরম ছিল কিন্তু বেশী পরিশ্রম করার কারণে পিঠের হাঁড়গুলো হালকা উঁচু হয়ে ছিল। অল্প বয়সের একটা ছোট্ট মহিলা যে চুপচাপ ব্যথা আর যন্ত্রণায় ভরা জীবনের বেশীর ভাগ সময় কাঁটিয়েছে। আমাদের আজ এই বিয়ের রাত কোন অবুঝ যুবক-যুবতীর মতো ছিল না। আমরা উভয়ে জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। বর্তমানে বয়সের ভারে আমাদের তেমন যৌবিক চাহিদা না থাকলেও ভালোবাসা, সম্মান এবং শ্রব্দাভোদ এর চাহিদা থাকাটা স্বাভাবিক এবং আছে। আমরা শুধু দু’জনে পাশাপাশি শুয়ে রইলাম। বাড়ির আঙ্গিনায় ঝি ঝি পোকার ডাক শুনতে শুনতে আর গাছের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার শু শু শব্দ অনুভব করতে করতে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমি তার মাথার লম্বা দীগল চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। আর তার কপালে আদরের সাথে হালকা করে চুমু খেতে লাগলাম। সে আমার গাল স্পর্শ করে ফিস্ ফিস্ করে বলল ধন্যবাদ পূর্বের ভালোবাসা পুন:রায় দেখানোর জন্য।

ধন্যবাদ যে এই দুনিয়াতে এখনো আমাকে ভালোবাসার মত কেউ বেঁচে আছে, যে কিনা জীবনের পরন্ত বিকালে এসেও আমার খেয়াল রাখে। আমি হাসলাম, জীবনের ৬১ টি বসন্ত পার করার পর আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম সুখ কোন পন্য নয় যা টাকা দ্বারা বাজার থেকে খরিদ করা যায়। সুখ কোন টাকা নয় আর না যৌবনের উগ্র আবেগ। সুখ হলো এমন একটি সত্বা বা অনুভুতি বা হাত যাকে হৃদয়ের ভালোবাসা দ্বারা অর্জন বা ধরে রাখা যায়। সুখ এমন একটা কাধ যার উপর মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়। সুখ এমন একটা বুক যার মাঝে নিজেকে সপে দিয়ে নিশ্চিত আশ্রয় পাওয়া যায়। আর এমন মানুষ যে সারা রাত তোমার সাথে জেগে থাকে শুধু তোমার হৃদয়ের স্পন্দন শুনার জন্য। আবার কাল আসবো কে জানে আমার আর জীবনের যতদিন অবশিষ্ট আছে? তার পরও একটা কথা নিশ্চিত আমার অবশিষ্ট জীবন আমি তাকে আগলে রাগবো, তার ভালো-মন্দ দেখাশোনা করব, তাকে যত্ন করে রাগবো, তার সুরক্ষা করব। যাতে তাকে আর কখনও কাউকে ভয় পেতে না হয়। কারণ আমার কাছে সেই বিয়ের রাত তার আধা শতাব্দীর ভালোবাসা হারিয়ে যাওয়ার আর অপেক্ষার পর জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার ছিল।

আপনাদের কি মতামত জীবনের ৬১টি বসন্ত পেরিয়ে এসে ছেলে-মেয়েদের অবহেলার একাকীত্বকে গোছানোর আশায় সেলিম চৌধুরী বিয়ে করে ঠিক কাজ করেছেন? আপনার যদি মনে হয় প্রত্যেকটা মানুষেরই ভালো থাকা উচিৎ তবে সবার মাঝে এই গল্পটি ছড়িয়ে দিবেন যাতে মানুষ বয়সের তোয়াক্কা না করে সুন্দরভাবে বাঁচার সাহস পায়। আজ এই পর্যন্তই আমার লেখা কাল্পনিক, ফেইজবুকে এবং ইউটিউবে পোষ্ট করা স্ত্রী/স্বামী বিয়োগ হওয়ার পর পরিবার থেকে অবহেলিত বিভিন্ন নারী-পুরুষের শেষ বয়সে এসে একাকীত্বের আকুতি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে আমার এই ক্ষুদ্র গল্প লেখা। এই গল্পের কোনো ঘটনা বা বিষয় কারো জীবনের সাথে কাকতালিয়ভাবে মিলে যায় এবং আপনি কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন। আপনাকে কষ্ট দেয়া বা দুঃখ দেয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু জীবনের শেষ সময়টুকু সাহসের সাথে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার প্রেরনা দেয়াই আমার মুল উদ্দেশ্য। পরিশেষে আপনাদের মুল্যবান সময় ব্যয় করে আমার গল্পটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।

সংবাদ লাইভ/সাহিত্য

 

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।