বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল আহবানের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রি প্রসঙ্গে শিক্ষা পরিষদের (অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল) জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীন বলেন, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সভায় কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বিষয়টি পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, তবে নিয়ম মেনেই অগ্রসর হতে হবে।
এর আগে বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭ টা থেকে থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচি চলে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত। রাতভর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করেন ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, রবিবারের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল আহ্বান না করা হলে তারা কোনোভাবেই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। রাতভর সড়কে অবস্থানকালে নারী শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত রাত ৩টার দিকে নারী শিক্ষার্থীদের হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাকিরা ভোর ৫টা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে ৩১ আগস্ট কাউন্সিল আহ্বানের আশ্বাস এলে তারা হলে ফেরেন।
শিক্ষার্থীদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির আন্দোলনের সুষ্ঠু ও দ্রুত সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করে যেখানে ভেটেরিনারি অনুষদের ৮০ শতাংশ এবং পশুপালন অনুষদের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে ভোট দেন। কমিটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে গত বুধবার উপাচার্যের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়।
ভেটেরিনারি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনেকদিন ধরে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল দ্রুত গঠনের জন্য আহ্বান জানানোর হয়েছে। কিন্তু তারা কেবক গড়িমসি করছেন। উপাচার্য আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় চান। তবে আমরা চাই আগামী রবিবারের মধ্যে জরুরি শিক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হোক এবং কম্বাইন্ড ডিগ্রি যতদ্রু সম্ভব চালু করা হোক।
ভেটেরিনারি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই একাডেমিক কাউন্সিল আহবানের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসন শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। আমরা চাই অবিলম্বে কাউন্সিল গঠন করা হোক এবং কম্বাইন্ড ডিগ্রি দ্রুত কার্যকর হোক।
এসময় পশুপালন অনুষদের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নিঝুম বলেন, আজকে ২৯ তম দিনের মতো পশুপালন অনুষদে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ আছে। আজ আমরা অধিকার আদায়ের জন্য এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দুটি অনুষদের এতগুলো নারী শিক্ষার্থী এখানে রাস্তায় বসে আছে। প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ আমাদের দেখতে আসলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। উপাচার্য যতক্ষণ না এখানে এসে আমাদের দাবির সাথে অর্থাৎ রবিবারের মধ্যে শিক্ষা কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে কথা দেবেন ততক্ষণ এই কর্মসূচি চলবে।
পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নিঝুম বলেন, পশুপালন অনুষদে প্রায় ১ ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ আছে। এতদিনেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।


