ads
ঢাকাশুক্রবার , ২১ জুন ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

রাসেল ভাইপার নিয়ে যেসব ভুল ধারণা জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে

সংবাদলাইভ ডেস্ক
জুন ২১, ২০২৪ ৬:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল ভাইপার সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ভুল তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যার ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সাপ বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎসারিত বিভ্রান্তিকর কিছু পোস্ট এ ধরণের সাপ, এর বিপদ ও ব্যাপকতা সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে আসছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক রাসেল ভাইপার সম্পর্কে কিছু ‘সঠিক’ তথ্য-

রাসেল ভাইপার মূলত একটি বিষাক্ত সাপ যা প্রাথমিকভাবে ভারত, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়াতে দেখা যায়, তবে এর উপস্থিতি সম্প্রতি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

রাসেল ভাইপার ভারতীয় উপমহাদেশের ভিপেরিডি পরিবারের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ এবং ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর চারটি সাপের মধ্যে একটি। এ প্রজাতি সাপের নামকরণ করা হয়েছে প্যাট্রিক রাসেলের নামে, একজন স্কটিশ হারপেটোলজিস্ট যিনি ১৭৯০ এর দশকে ভারতের অনেক সাপের বর্ণনা করেছিলেন।

উলুবোড়া নামেও পরিচিত এই সাপ মূলত খোলা পরিবেশ যেমন কৃষি জমিতে বেশি বিচরণ করে যেখনে ইঁদুর শিকারে এর সুবিধা হয়।

রাসেল ভাইপারের দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দৈর্ঘ্য ১.৫-১.৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে ও এটিকে হালকা লালচে-বাদামী ও সাদাকালো দাগে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

রাসেল ভাইপার আসলে কতটা বিষাক্ত

বিশ্বের অনেক হারপেটোলজিস্টের মতে, রাসেল ভাইপার বিশ্বের ‘বিষাক্তধর’ সাপ নয়। ব্ল্যাক মাম্বা ও পাফ অ্যাডার প্রজাতির সাপগুলো শক্তিশালী বিষ ও আক্রমণাত্মক প্রকৃতির জন্য এদের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিবেচনা করা হয়।

যদিও অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ভারতে অসংখ্য সাপের কামড়ে মৃতের ঘটনার জন্য দায়ী, রাসেলের ভাইপারকে ‘কম আক্রমণাত্মক’ বলে বিবেচনা করা হয়।

ধামরাই উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মমিনের মতে, রাসেল ভাইপার শীর্ষ ৩০টি বিষধর সাপের মধ্যেও স্থান পায় না।

তিনি জানান, মূলত ‘বিলম্বিত চিকিৎসার’ কারণে এ সাপের কামড়ে প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৭০ ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেঁচে যায় যদি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আর ৯০ ভাগ মানুষ বেঁচে যায় যদি সঠিকভাবে যত্ন নেয়া হয়।

আল মমিন আরো জানান, রাসেল ভাইপার মানুষের থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে ও চাইলেই তা মানুষকে আক্রমণ করতে চায় না। বেশির ভাগ সাপের কামড় ঘটে যখন মানুষ এটিকে উস্কে দেয় ও অসাবধানতাবশত সামলানোর চেষ্টা করে।

তবে মজার বিষয় হল – রাসেল ভাইপার বেশ ‘অলস’, বিরক্ত না হলে এক জায়গাতেই অনেকদিন থাকে।

বাংলাদেশে রাসেল ভাইপারের বিস্তৃতি

সম্প্রতি প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যায়, রাসেল ভাইপারের উপস্থিতি খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর এবং ঢাকার আশেপাশের এলাকাসহ বাংলাদেশের অন্তত ২৫টি জেলায় পাওয়া গেছে। এ বছর এ সাপের কামড়ে ১০ জন মারা গেছে, এদের বেশিরভাগই কৃষক ও জেলে।

বর্তমানে দেশের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল কার্যকর অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত সরবরাহ। বর্তমানে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম মূলত ভারতীয় সাপের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ভাইপার প্রজাতির জন্য সম্পূর্ণ কার্যকর নাও হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রাসেলস ভাইপারের জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিভেনম তৈরি করছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যকর চিকিৎসা প্রদানের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে সাপের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ

গ্রামবাসীদের দ্বারা শিয়াল, মনিটর টিকটিকি ও বেজিদের মতো প্রাকৃতিক শিকারী হত্যা পরিবেশগত ভারসাম্যকে ক্ষতি করেছে, যার ফলে দেশে সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব প্রাকৃতিক শিকারীরা সাপের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল, ফলে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মানুষ-সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেশি করে ঘটছে।

ভুল তথ্য ও আতঙ্ক মোকাবেলায় বন কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মমিন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা সক্রিয়ভাবে সঠিক তথ্য প্রচার করছেন। সরকার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও কার্যকরভাবে অ্যান্টিভেনম বিতরণের কাজ করছে।

এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, সারা দেশে অ্যান্টিভেনমের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।