ads
ঢাকামঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

ব্যর্থ জীবনের শেষ আশ্রয়: ছোট ভাইয়ের বাসা ছেড়ে বড় বোনের বৃদ্ধাশ্রমের পথে যাত্রা

সংবাদ লাইভ
ডিসেম্বর ১০, ২০২৪ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডাঃ এম, এ, মোমেন: “আমি আর এই মহিলার সাথে এক ঘরে থাকতে পারছিনা তুমি কিছু একটা করবে নাকি আমি নিজেই তোমার সংসার ছেড়ে চলে যাবো? একতো প্রায় পঙ্গু বোনকে বাসায় চিরস্থায়ী বন্দ্যবস্ত দিয়েছ তার উপর আবার বড় বোনের উটকো ঝামেলা আর সামাল দিতে পাচ্ছি না! আমারও তিনটি ছেলে-মেয়ে আছে, তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। তুমিতো সংসারের প্রয়োজনীয় বাজার করে সব দায়িত্ব শেষ মনে করছ আর আমি সারা দিন সংসারের নানান কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি! আর পারছি না।

আরে তুমি যাবে কেন? দেখো মায়ের মত আমার বড় বোন! তারতো অনেক বয়স হয়েছে, তার তিন তিনটি ছেলে মেয়ে থাকা সত্বেও দুলাভাই মারা যাওয়ার পর তার দায়িত্ব কেউ সঠিকভাবে পালন করছে না। তাই গাছ থেকে ঝড়ে পরা পাতার মত বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে আজ মেয়ের বাসায় কাল আবার ছেলের বাসায় কিন্তু কোথাও সম্মান বা শান্তি না পেয়ে জীবনের শেষ সময় এসে তার অতি আদরের ছোট ভাই আমার বাসায় এসে একদন্ড শান্তির জন্য আশ্রয় নিয়েছে। আমি তার ভাই হিসেবে যদি উপযুক্ত সম্মান না দেই তবে সে আর যাবে কোথায়। তার তো বেশ বয়স হইছে কিছুদিন পরে এমনিতেই মারা যাবে।

তুমি যাই বল আমি আর এক মুহুর্তও তাকে সহ্য করতে পারছিনা। এই মহিলা সারাক্ষণ বক বক করে আর সব কিছুতেই আমাকে হুকুম দেয়। যেনো আমি এই বাড়িতে পড়ে আছি ওনার কাজ করার জন্য। আমি আর পারছিনা। বর্তমান সময়ে ছেলের বউ শাশুড়িকেই দেখতে পারে না বা সেবা করে না! তার উপর স্বামীর বড় বোন কোন ছাই। একটা কাজ করতে পারো!

কি কাজ?

তোমার বোনকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দাও। তাহলে তো আর কোনো সমস্যা নাই। ওখানে ওনার বয়সী আরো মানুষ আছে।

বৃদ্ধাশ্রম! এটা কি ঠিক হবে? উনি স্বামীকে হারিয়ে এবং ছেলে-মেয়েদের অবহেলা বা অসম্মান সহ্য করতে না পেরে আমাদের বাসায় এসে আশ্রয় নিয়েছে ভাই হিসেবে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়তো সঠিক হবে না।

তোমার মনের কথা বুঝতে পারছি তুমি কোন ব্যবস্থা নিবা না! কিন্তু আমি এই বুড়ির মরার অপেক্ষায় থাকতে পারবোনা। আর নাহলে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়ে মেরে ফেলবো। এক বারেই ক্লিয়ার।

কিহ!

আমি যেটা বলছি সেটাই। তুমি ভালোভাবে জানো আমি যা বলি তাই করি তাতে কে খুশি হলো বা রাগ করলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তুমি বলো কোনটা করবে?

বউয়ের কথায় ভাইটা বেশ বিপদে পরে গেল সে এই অবস্থায় কি করবে চিন্তায় পড়ে গেছে। ছেলে-মেয়ের বাসা থেকে বিতারিত হয়ে ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়া বড় বোন-কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালে লোকে কি বলবে? অন্যদিকে আড়ালে দাঁড়িয়ে আদরের ভাই আর ভাইয়ের বউয়ের বলা সব কথা শুনেছে বড় বোন। তাদের কথা শুনে বোনের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। মায়ের মতো বড় বোনের বুক ছিড়ে কান্না আসছে। উনি নিজের রুমে গিয়ে সন্তান তুল্য আদরের ছোট ভাইয়ের জন্য একটা চিঠি লিখে তার একান্ত প্রয়োজনীয় কাপড় পুটলা বেঁধে সাথে নিয়ে বের হয়ে গেলেন। ভাই আর ভাইয়ের বউ কিছুক্ষণ পরে বোনের থাকার ছোট রুমে আসে। এসে দেখে অসহায় বড় বোন বিছানায় নেই। তার শেষ আশ্রয় স্থল ছোট রুমের বিছানায় পরে আছে একটা চিরকুট। ভাই চিরকুট হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করল।

চিরকুটআদরের ছোট ভাই আমি চলে যাচ্ছি। তোমার বউকে বলে দিও আমাকে আর মারতে হবে না। আমাকে নিয়ে চিন্তা করিস না। আমি হয়তো ভালো থাকবো। তুইও ভালো থাকিস। তোর ছেলে-মেয়ে এবং বউয়ের খেয়াল রাখিস। মেয়েটা অন্যের বাড়ি থেকে তোর কাছে এসেছে। ওর অযত্ন করিসনা। জানিস ভাই আমাদের বাবা অফিসে সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ার পরে তোকে আমি অনেক কষ্ট করে বড় করেছি। তোকে অনেক ভালো বাসতাম বলে নিজে না খেয়ে তোকে খাইয়েছি। তুই আমার খুব আদরের ছিলি ভাই। তুই যখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিস তখন মনে হচ্ছিলো আমার ভাই বড় হয়ে এই অসহায় পরিবারের সকলের যত্ন নিবে। সব সুখ সবার কপালে থাকেনা। আমার কপালেও নেই। তুই যখন বড় হলি চাকরি করতে শুরু করলি তখন ভেবেছি তোকে আমি পছন্দ করে বিয়ে করাবো। কিন্তু তোর বিয়ের সময় হওয়ার পূর্বেই আমাদের বাবা-মা মারা যাওয়ায় আমাদের বড় ভাইয়ের উপর পরিবারের দায়িত্ব পরে তাই তার মতামতের গুরুত্ব দিয়ে তারই পছন্দের মেয়েকেই আমরা তোর বউ হিসেবে আনতে দুইবার না ভেবেই রাজি হয়েছি। কারণ আমি চাই আমার আদরের ভাই সুখী হোক। ভাই জানিস আমার মনে খুব কষ্টরে। কথা বলার একটা মানুষ নাই আমার। তুই কি বলতে পারবি শেষ কবে তুই আমার সাথে বসে একটু কথা বলছিস? শেষ কবে আমাকে জিজ্ঞেস করছিস বুবু তুমি কেমন আছো? বুবু তুমি খেয়েছো কি-না? আমাকে শেষ কবে তুই বুবু বলে ডেকেছিস? আমি সব সময় অপেক্ষা করতাম আমার ভাই আমাকে একবার বুবু বলে ডাকবে। অনেক দিন হয়েছে তোর মুখে বুবু ডাক শুনি না। আমার কলিজার ভিতরের দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন তোর একটা বার বুবু ডাকেই নিভে যেতো। আমার তো খুব ইচ্ছে করতো তোর সাথে একটু বসে কথা বলি। জানিস ভাই আমার সব থেকে বেশি কষ্ট লেগেছে তোর বউ যখন বলছে আমাকে বি’ষ খাইয়ে মেরে ফেলবে আর তুই কিছুই বললি না তখন। আমি শুধুই তোর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তুই কখন তোর উত্তর দিবি। তোর বোনকে মারার কথা বলছে তোর বউ। কিন্তু তুই! বউমা কে বলে দিস তোর যাতে খেয়াল রাখে। বউমাকে আমি সব সময় নিজের ছোট বোনের মতো দেখেছি। আঘাত পাবে কখনও এমন কথা বলিনি। হ্যাঁ এটা ঠিক যে আমি একটু বেশি কথা বলি এবং আমি ওর কাছেই সব কিছু চাইতাম। কি করব বল? আমার তো বয়স হয়েছে নিজে রান্না করে খেতে পারিনা। পেটের খিদে সহ্য হয়না আমার। তাই একটু বউমাকে বলি আমাকে কয়টা ভাত দেওয়ার জন্য। আগের মতো সেই বয়স তো আমার নেই যে নিজের সব কাজ নিজে করব। তোকে  বা পরিবারের সকলকে ভালো রাখার জন্য আমি একসময় অর্থ আয় করার জন্য তাঁতীদের তাঁতের তানার কাজ করেছি। এই কথা বা স্মৃতিগুলি মনে হলে খুব কষ্ট হয় আমার। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকি তুই অথবা বউমা কেউ আমার খোঁজ নিতেও আসিস না। অনেক কথা বলে ফেলছি। আমি চলে যাচ্ছি বৃদ্ধাশ্রম। বউমা ঠিক কথা বলেছে। এখানে তো আমার সাথে কথা বলার কোনো মানুষ নেই। ওখানে গেলে কথা বলার ও মানুষ হবে। তোদের জন্য আমার দোয়া সব সময় থাকবে। তোরা ভালো থাকিস।

ইতি

তোর বাসার আপদ

যবনীকা।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।