ads
ঢাকাশুক্রবার , ১৪ জুন ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বহিষ্কৃত হওয়া ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেসক্লাব খুললেন বিতর্কিত বিএনপিপন্থি শিক্ষক

বাকৃবি প্রতিনিধি
জুন ১৪, ২০২৪ ৬:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুমোদিত  সাংবাদিকদের সংগঠন বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি (বাকৃবিসাস) থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসের একজন বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও বিতর্কিত কিছু শিক্ষার্থী মিলে বাকৃবি প্রেসক্লাব নামের একটি নতুন সংগঠন খুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক বিভাগ কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন ২০২৪) বাকৃবি প্রেসক্লাব নামে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার পর বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি তারা প্রকাশ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় যখন ঈদের ছুটির বন্ধ, শিক্ষার্থীরা সবাই বাসায়, ঠিক তখনি সবার অগোচরে এই কমিটি ফেসবুকে ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সবুজ বাংলাদেশ ২৪ ডটকমের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান সবুজ। শিক্ষক হয়ে একটি পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবার প্রেসক্লাবের সভাপতি। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যেটি একটি বিরল ঘটনা। বিতর্কিত শিক্ষক ড. সহিদুজ্জামান নিজের অফিসেই খুলে বসেছেন তার অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়। সরকারী আইন অনুযায়ী যেখানে একজন সরকারী চাকুরীজীবী ব্যক্তি চাকুরির পাশাপাশি কোনো ধরনের লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে পারেন না, সেখানে পুরো একটি অনলাইন পোর্টালের কার্যালয়ই নিজের কর্মরত অফিসকে বানিয়ে পোর্টালটিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিতর্কিত এই শিক্ষক। সেই পোর্টালে কাজ করার জন্য তিনি ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সমিতি থেকে যেসকল সাংবাদিক দুর্নীতি কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হন তাদের টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে দাওয়াত করা না সত্ত্বেও নিজে থেকেই তার পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের পাঠানো এবং প্রোগ্রামে আয়োজকদের কাছ থেকে নিউজ কভারেজের জন্য টাকা দাবি করারও অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও জানা যায়, ড. সহিদুজ্জামান সবুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সোনালি দলের ২০১৩-১৪ ভেটেরিনারি অনুষদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন এবং এই মর্মে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্রও নিয়েছেন।

এদিকে বির্তকিত এই প্রেসক্লাবের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম এসেছে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রায়হান আবিদের। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির- ২০২৩ কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কৃত হন। এছাড়াও বির্তকিত এই প্রেসক্লাবের কমিটির সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ২০২১ সালে। পরে ২০২২ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ‌্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘গঠনতন্ত্রসহ একটি আবেদন ছাত্রবিষয়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে আর কি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তো শিক্ষকরা সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকে। বিষয়টাকে এভাবে দেখতে পারো যে, অনেক সায়েন্টিফিক জার্নালে তো শিক্ষকরা কাজ করেন, তেমনি এটা একটা নিউজ জার্নাল। এখানে আইনি তো কোনো জটিলতা নেই।’ প্রেসক্লাব খোলার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বহিষ্কৃত সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করে নিজের পোর্টালটিতে কাজ করানোর বিষয় এবং প্রোগ্রামে আয়োজকদের কাছ থেকে নিউজ কভারেজের জন্য টাকা দাবি করারও অভিযোগের বিষয়ে অধ‌্যাপক ড. সবুজ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কমেন্ট করতে চাই না।’

বিতর্কিত প্রেসক্লাব সংগঠন খোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক দীন মোহাম্মদ দীনু বলেন, ‘আমার দপ্তরও এ বিষয়ে কিছুই জানে না। কোনো কাগজও হাতে পাইনি। এখন তো ক্যাম্পাস বন্ধ। ভিসি স‌্যারও হজ্বে আছেন। অনুমতি ছাড়াই কিভাবে ক‌্যাম্পাসের নাম ও লোগো ব‌্যবহার করে একটি সংগঠন খুলতে পারে বিষয়টি আমার বোধগম‌্য নয়।

বিতর্কিত প্রেসক্লাব সংগঠন খোলার বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো অবগত নই। তারা কোনো কাগজ ছাত্রবিষয়ক বিভাগে জমা দিয়েছে কি না, আমার জানা নেই। আর জমা যদি দিয়েও থাকে, সেটা তো আর অনুমতি দেওয়া হলো না। আর আমি চাইলেই কি অনুমতি দিতে পারবো নাকি? ভিসি স্যার ছাড়া অনুমতি দেওয়া যাবে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এবং ভিসি স্যার হজ্ব থেকে আসলে আমরা এটি নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।’

বিতর্কিত শিক্ষক ড. সবুজের বিষয়ে বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি পত্রিকার সম্পাদক হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে অনুমতি দেওয়ার কথা না। অনেক শিক্ষকই বুঝে না এটি, না বুঝেই থাকে সাপোর্ট দেয়। কেউ কিছু বলেও না।’

বাকৃবির উপাচার্য অধ‌্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী হজ্বে থাকায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অধ‌্যাপক ড. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তারা কোনো প্রস্তাবও দেই নি কিংবা আমাকে একবারও জানায়ও নি। আর আমি উপাচার্য স্যারের অনুমতি ছাড়া কিছুই করতে পারবো না। তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুর অনুমোদন দেওয়া আমার এখতিয়ারে নেই।’

সংবাদ লাইভ/বাকৃবি

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।