ads
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় ট্রাভেলার আশরাফুল আলমের বিশেষ উদ্যোগ

মুখোমুখি
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৪ ৩:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পরিবেশ দূষণ, আর অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ—দুইয়ে মিলে ঢাকা নগরীকে করে তুলেছে বসবাসের অযোগ্য। এ পরিস্থিতিতে ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে প্রয়োজন ব্যাপক উদ্যোগ। আর এ কারণে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে নিমের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের সুপরিচিত ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় ৫ শত নিম গাছ রোপণ করেছেন। তাঁর সাথে কথা বলে সবুজ এই উদ্যোগের বিস্তারিত জেনেছেন আবুল বাশার মিরাজ

প্রশ্ন: ঢাকায় ৫০০ নিম গাছ রোপণের এই উদ্যোগের পেছনের মূল অনুপ্রেরণা কী?

আশরাফুল আলম: আমি সবসময়ই পরিবেশের বিষয়ে সচেতন ছিলাম। ঢাকার বায়ুদূষণ এবং পরিবেশগত সমস্যাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি সবুজ নগরী তৈরি করার জন্য আমাদের সবাইকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। নিম গাছের বায়ু পরিশোধনের ক্ষমতা এবং এর ঔষধি গুণাগুণ আমাকে এই গাছ রোপণের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। আমি চাই ঢাকার পরিবেশ উন্নত হোক, এবং এই গাছগুলো সেই পথে একটি ছোট্ট পদক্ষেপ।

প্রশ্ন: আপনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকায় কী ধরনের প্রভাব আশা করছেন?

আশরাফুল আলম: আমি আশা করছি, এই গাছগুলো ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা করবে এবং শহরের সবুজায়নকে বাড়িয়ে তুলবে। নিম গাছের বায়ু পরিশোধন ক্ষমতা এবং পরিবেশের জন্য এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়াও, এই উদ্যোগ মানুষকে গাছ রোপণের প্রতি উৎসাহিত করবে এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। আমার বিশ্বাস, এই ধরনের ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো একত্রিত হলে আমাদের শহর ঢাকাকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

প্রশ্ন: গাছ রোপণ কার্যক্রমের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

আশরাফুল আলম: স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। গুলশান-বনানী লেকপাড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাছ রোপণের সময় অনেকেই এসে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। অনেক মানুষ এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং এর ফলে তারা নিজেদেরও পরিবেশের জন্য কিছু করার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ ধরনের সহায়তা এবং উৎসাহ আমাকে আরও এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে আপনি এমন আরও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কী?

আশরাফুল আলম: অবশ্যই। আমি বিশ্বাস করি যে, পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে আমি আরও বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপণ এবং সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো ঢাকাকে একটি সত্যিকারের সবুজ নগরীতে পরিণত করা, যেখানে মানুষ একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

প্রশ্ন: এই উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি কী ধরনের বার্তা ছড়াতে চান?

আশরাফুল আলম: আমি সবাইকে বলতে চাই, আমাদের পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। গাছ লাগানো, পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হওয়া—এগুলো আমাদের দায়িত্বেরই অংশ। আমি আশা করি, আমার এই উদ্যোগ মানুষকে পরিবেশের জন্য কাজ করতে এবং সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

প্রশ্ন: ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’ এবং ‘এসএমএস এনভায়রনমেন্টাল এলায়েন্স’ কীভাবে এই উদ্যোগে আপনার সঙ্গে কাজ করেছে?

আশরাফুল আলম: “মিশন গ্রিন বাংলাদেশ” এবং “এসএমএস এনভায়রনমেন্টাল এলায়েন্স” এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা পুরো কার্যক্রমটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করেছে এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রমের সাফল্য নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা ছাড়া এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হতো।

প্রশ্ন: গাছ রোপণের জন্য গুলশান-বনানী লেকপাড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নির্বাচন করার কারণ কী?

আশরাফুল আলম: গুলশান-বনানী লেকপাড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঢাকার কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসা-যাওয়া করেন। এই এলাকাগুলোতে সবুজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি এবং এখানকার পরিবেশকে আরও সবুজ ও স্বাস্থ্যকর করার লক্ষ্যেই এই স্থানগুলোকে নির্বাচন করেছি। এছাড়া, ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও পর্যায়ক্রমে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: গাছ রোপণের পর তাদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যা কিভাবে নিশ্চিত করবেন?

আশরাফুল আলম: গাছ রোপণের পর তাদের রক্ষণাবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’এর মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে গাছগুলোর পরিচর্যা, পানি দেওয়া, এবং প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগের বিষয়টি দেখাশোনা করবেন। এভাবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, গাছগুলো সঠিকভাবে বড় হতে পারে এবং তাদের পরিবেশগত ভূমিকা পূর্ণভাবে পালন করতে সক্ষম হয়।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ের সামাজিক মাধ্যমে আপনার কনটেন্টের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কী বার্তা দিতে চান?

আশরাফুল আলম: আমার কনটেন্টের মাধ্যমে আমি সবসময়ই একটি বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করি যে, পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সামাজিক মাধ্যম একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা অনেক মানুষকে একই সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারি। আমি চাই মানুষ বুঝুক যে, তাদের ছোট ছোট কাজও পরিবেশের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গাছ রোপণ, প্লাস্টিক বর্জন, পুনর্ব্যবহার—এই সবকিছু নিয়ে আমি আমার কনটেন্টে কথা বলি, যাতে মানুষ সচেতন হয় এবং নিজেদের কাজের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশ্ন: এ ধরনের উদ্যোগে তরুণ সমাজকে আপনি কিভাবে যুক্ত করতে চান?

আশরাফুল আলম: তরুণ সমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ, এবং তারা পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমি চাই তরুণরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিয়ে আরও সচেতন হোক এবং নিজেদের আশপাশের পরিবেশকে আরও সুন্দর করার উদ্যোগ নিক। আমি বিশ্বাস করি, তাদের সঙ্গে কাজ করলে আমরা আরও বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারব। এজন্য আমি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি, যাতে তারা সক্রিয়ভাবে এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন যে, এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি সরকারি পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ?

আশরাফুল আলম: অবশ্যই। ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলো একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলার জন্য সরকারি পদক্ষেপেরও প্রয়োজন রয়েছে। সরকার এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ একসাথে কাজ করলে আমরা আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে আমাদের পরিবেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারব। সরকারের সহায়তা, নীতি প্রণয়ন, এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিনিয়োগ এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রশ্ন: পাঠকদের জন্য আপনার কোনো বিশেষ বার্তা আছে?

আশরাফুল আলম: হ্যাঁ, আমি সকলকে অনুরোধ করব, আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের  প্রত্যেকটি শহরকে সবুজ ও সুন্দর করার জন্য কাজ করি। গাছ লাগানো, পরিবেশের প্রতি যত্ন নেওয়া—এগুলো আমাদের প্রতিদিনের কাজের একটি অংশ হওয়া উচিত। আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন বড় পরিবর্তন আনবে।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।