গুগল নতুন একটি কুয়ান্টাম কম্পিউটার “উইলো চিপ” উন্মোচন করেছে, যা একটি গণনা শেষ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়েছে, যা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর জন্য সম্পন্ন করতে ১০ সেপটিলিয়ন বছর সময় লাগবে। ২০১৯ সালে গুগল কুয়ান্টাম সুপ্রিমেসির দাবি করার পর এই নতুন অর্জনটি এলো, যেখানে কুয়ান্টাম কম্পিউটারগুলোকে ঐতিহ্যবাহী কম্পিউটারগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করতে দেখানো হয়েছিল, যদিও কিছু বিজ্ঞানী তার ব্যবহারিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
সোমবার গুগল নতুন এই কুয়ান্টাম কম্পিউটারটি উন্মোচন করে, যা ঐতিহ্যবাহী কম্পিউটারের সাথে প্রতিযোগিতায় একটি বড় পদক্ষেপ। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ড্রাগ আবিষ্কার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর মতো ক্ষেত্রগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটাতে সহায়ক হতে পারে। কুয়ান্টাম কম্পিউটিং, যা এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, কুয়ান্টাম বিট (কিউবিট) ব্যবহার করে, যা একসাথে ১ এবং ০ উভয় মানকেই প্রকাশ করতে পারে, ফলে এতে কম্পিউটেশনাল শক্তি কয়েক গুণ বাড়ে। তবে কুয়ান্টাম সিস্টেম এখনও ত্রুটিপূর্ণ এবং এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
গুগলের নতুন চিপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি সংশোধন মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য কুয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে, প্রাকটিক্যাল ব্যবহার যেমন ড্রাগ আবিষ্কার বা এনক্রিপশন ভাঙা এখনো কয়েক দশক দূরে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট, ইন্টেল এবং আইবিএমের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কুয়ান্টাম গবেষণায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। চীন ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তিতে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। কুয়ান্টাম কম্পিউটিং একদিন শিল্প জগতে বিপ্লব ঘটাতে পারে, তবে তার বর্তমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আরো সময় প্রয়োজন।


