ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম: খাদ্য উৎপাদন করে দেশের মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব”- কথাটি সঠিক নয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, খাদ্যের পর্যাপ্ততা, মানসম্মত, নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য এবং পরিবেশবান্ধবতা নিশ্চিত না করে কেবল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করলেই দেশকে খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। খাদ্য নিরাপত্তার সূচকগুলো অন্যান্য বিষয় দ্বারা প্রভাবিত। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তার আয়ের উপর নির্ভর করে। তাই মাথাপিছু আয় বাড়লে পরিবারের সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ক্রয় করা সম্ভব। কিন্তু কৃষকের মাথাপিছু আয় অন্যদের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় তার ক্রয়ক্ষমতাও কম এবং খাদ্য নিরাপত্তা সূচকের ১ম বিষয়টিতেই সে পিছিয়ে থাকে। এতে কৃষিনির্ভর দেশটিও সামষ্টিকভাবে খাদ্যনিরাপত্তায় পিছিয়ে যায়।
খাদ্য নিরাপত্তা সূচক নির্ধারণী পরবর্তী বিষয় হলো খাদ্যের পর্যাপ্ততা। উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণ থাকলেও বেশী মূল্য পাবার আশায় দেশে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এতে করে খাদ্যের পর্যাপ্ততা কমে যায়। আয় কম হওয়ায় উৎপাদিত উচ্চমূল্যের মানসম্মত খাদ্য দেশের মানুষ ক্রয় করতে পারে না, যা খাদ্য নিরাপত্তার ৩য় শর্ত অপূর্ণ রাখে। নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। সর্ব সাধারণের ক্রয়সীমার মধ্যে আনতে এবং প্রতিযোগীতামূলক মূল্যে বিক্রয় করতে উৎপাদনকারী খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল দিয়ে থাকে। ফলে ভোক্তার সামর্থ্য বাড়ে এবং বিক্রেতাও লাভবান হয়। বিক্রেতার মাথাপিছু আয়ও তাকে খাদ্য অনিরাপত্তায় ভোগায়। এসব কারণেই কৃষি নির্ভর দেশগুলো খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির চাপ অনুভব করে। অধিক মাত্রায় কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তারা বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে পরিবেশবান্ধবতা বৃদ্ধির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় যা অর্থসংকট সৃষ্টি করে এমনকি বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য করে।
একটি সমীক্ষায় ১১৩টি দেশের জিডিপি বিন্যাস পর্যবেক্ষন করে করে দেখা যায় যে, কৃষি নির্ভর দেশেগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার সূচক অনেক কম এবং তারা খাদ্য নিরাপত্তায়ও পিছিয়ে। তবে কি কৃষি নির্ভরতা কমাতে হবে? উত্তর হচ্ছে “না”। এক্ষেত্রে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষির শিল্পায়ন এবং কৃষিজ দ্রব্যসমূহ উন্নত সেবায় ব্যবহার উপযোগী করে কৃষিসেবা বৃদ্ধি করতে হবে।
লেখক: প্রফেসর, পশুপুষ্টি বিভাগ, পশু পালন অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।


