আশরাফুল ইসলাম আকাশ, বগুড়া: হিরো আলম। গেল কয়েকবছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। নানা সময়ে অভিনয়, মিউজিক ভিডিও, রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে আবার কখনো বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তবে এবার অভিনয় কিংবা গান গেয়ে নয়, বরং সংসদ সদস্যের নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এলেন এই সোস্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
সম্প্রতি বিএনপির গণসমাবেশ থেকে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলটির সাতজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট (এমপি)। এতে পূনরায় বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আসনগুলোতে উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছেন।
এর ফলে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতার ঘোষণা দিয়েছেন হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, আমি আবারও সংসদ সদস্যের ভোট করব। এজন্য জাতীয় পার্টি আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের হয়ে নির্বাচন করবো। অন্যথায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই এ (বগুড়া-৪) আসনে লড়াই করতে চাই।
‘যদিও পার্টি এখনো নির্বাচনে যাবে কিনা সে বিষয়ে খোলাসা করেনি। এমনকি প্রার্থীতার বিষয়েও পরিস্কার করা হয়নি। এজন্য আমি নিজের পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেন ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারি, বললেন হিরো আলম।’
উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে গরীব-দুঃখী মানুষের কথা বলার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা শহর হিসেবে বগুড়া অত্যন্ত চমৎকার একটি শহর। সে তুলনায় কাহালু-নন্দীগ্রাম কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষা, সমন্বয়হীনতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে। এজন্য সংসদীয় এলাকায় উন্নতমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বাণিজ্যিক এলাকা এবং চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। যদি সংসদ সদস্য হিসেবে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে সংসদে গরীব-দুঃখী মানুষের কথা বলতে চাই।’
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করেই বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক আশা-আকাঙ্খা ও স্বপ্ন নিয়ে এমপিদের নির্বাচিত করেন। কিন্তু বিএনপির এমপি (মোশাররফ হোসেন) মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এজন্য তার উচিত মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
উপ-নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার জন্য অনুরোধও জানিয়েছেন এই সোস্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করেছিলেন হিরো আলম। তবে ভোট কারুচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছিলেন তিনি। তবে সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ায় ফের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই মডেল।


