হাসান শাহরিয়ার জয়: অনেকদিন হল কিছু লিখা হয় না। একটা প্লট খুঁজে বের করা দরকার। কিন্তু কি লিখবো? রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কিছুক্ষণ বসলাম। না, কোন কিছুই মাথায় আসে না। সামনে দিয়ে বাচ্চারা ক্রিকেট বল –ব্যাট নিয়ে মাঠের দিকে যায় আর আসে। হাবভাব দেখে মনে হয়, এরা যেন এক একটা পিটারসন, ক্যালিস, জয়সুরিয়া। একসাথে কোন ইন্টারন্যাশনাল কাপ জয় করতে যাচ্ছে।এদিকে ডান দিকে কোন এক আবাসিক হল এর কাজ হচ্ছে। মাথা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে আরও। না থাক , উঠি এখন।
হাটতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে কি মনে হল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়লাম। কিছু একটা লিখাই দরকার, মাইন্ড স্যাটিসফেকশন হচ্ছে না। প্যারিস রোডের ধারে এক গাছের নিচে বসলাম। এখানে গাছগুলো বিশাল বড়। গাছগুলো কি তা এখন জানতে ইচ্ছে করছে না। তবে গাছগুলো খুব পরিচিত ও এদের দিকে চাইলে একটা গান খুব মনে আসে, তোমায় আমি চিনি না আবার বোধ হয় চিনি।।
মনকে সান্তনা দিলাম, আমি তো সাহিত্যের লোক। এসব গাছ চিনে আমার লাভ কি? বোটানি, ফরেস্টির ছেলে মেয়েরা এসব গাছ চিনবে। আমি সাহিত্যের শাখা প্রশাখায় বিস্তার করি। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অপেক্ষা এখানে লোক সমাগম অনেক বেশি। বিচিত্র রকম মানুষ নজরে পড়ছে।তবে অধিকাংশ মানুষই বহিরাগত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আর বহিরাগত এক নজর দেখেই পার্থক্য করা যায়। রবি ঠাকুর বলে গেছেন ফ্যাশানটা হচ্ছে মুখোশ আর স্টাইলটা মুখশ্রী। আর এ দুটোর কম্বিনেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা হচ্ছে রিকম্বিনেন্ট।
যাহোক, আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সৃষ্টিশৈলী প্রদর্শন করা। সামনে দিয়ে টয়োটা, করলা, ল্যান্ড ক্রুজার রোডের বুক কাঁপিয়ে চলে যাচ্ছে।এক পরিবার হেটে যাওয়ার সময় স্বামী তাঁর স্ত্রীকে বলছে, এক সময় আমারও এ রকম একটা গাড়ি থাকবে। কথাটা শুনে স্ত্রী মুখ বাঁকা করে একটু খোঁচা দিয়ে বলছে, হুম্মম্মম্মম; একটা বাইক পর্যন্ত কিনতে পারে না আর জীপ কেনার কথা ভাবছে? তবে এই মুখ ভেংচানো কথাটার যে কি মর্ম তা তাঁদের কথা না শুনে শুধু একটিবার মুখের দিকে চেয়েই বলে দেওয়া যায়। হাজার বছরের না পাওয়ার আকুতি যেন চোখে মুখে প্রকট।
দুজনেই গম্ভীর মনে হাঁটছে। কেউ আর কোন কথা বলল না। বাবার হাত ধরে প্যারিস রোডে হাসিমুখে হাঁটতে থাকা ছেলেটা তাঁর বাবা মায়ের কথার কিছু বুঝতে পারে নাই। নান্দনিক আর কাল্পনিক এক খুশি আজান্তেই শিশুমনে শোভা পাচ্ছে। বদ্ধ দেয়ালের বেড়াজাল ভাঙতে পারার খুশিই তাঁর মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে। যাহোক, কাল্পনিক এক মোহের চাদরে আটকে পড়া দরিদ্র এক দেশের মধ্যবৃত্ত পরিবারের প্রতিরূপ এবং স্রষ্টার বিচিত্র খেয়ালে তৈরি হওয়া সাম্যের বৈরি প্রভাব এভাবেই চোখে পড়ে দেশগুলোর পথে প্রান্তরে।
দূর থেকে ধুলিমাখা চোখে শিশুটির হাঁটা দেখছি। ভালই লাগছে। শিশুটিকে এই বয়সে প্রাচ্যের কেমব্রিজের বুকে হাঁটতে দেখে বুকে কিছুটা তৃপ্তটা অনুভব হয়, হয়তো বড় হয়ে সে সুদুর কেমব্রিজে হাঁটার সামর্থ্য ও সাহস এখান থেকেই লাভ করবে।
সময় গড়াচ্ছে, নানা চিন্তা মাথায় ঘুরছে। তবে কিছুটা mind fresh হচ্ছে। এই যে সামনে দিয়ে এত মানুষ যাচ্ছে, একবার আপাদমস্তক দেখেই তাঁদের সম্পর্কে অনেক বিচিত্র তথ্য মাথায় আপনাআপনি চলে আসছে। একবার মনে হচ্ছে, এনাদের সম্পর্কে আমার মাথায় যাকিছু আসছে তা একবার ডেকে মিলিয়ে দেখি তো, কতটুকু সত্য?
না থাক। তাঁরা অপরিচিত, হুট করে ডেকে এসব কথা বলতে শুরু করলে হয় তারা পাগল ভাববেন নয়তো সন্দেহ করে পুলিশ পর্যন্তও ডাকতে পারেন। এদিকে এক দম্পতি বিয়ে করে কাপল ছবি তূলতে ক্যাম্পাস এসেছে। নানা রঙের সাজসজ্জা চোখে পড়ছে তবে যে ফটোগ্রাফার এসেছে সে বোধহয় একেবারে লার্নার পর্যায়ের। ছবি তোলার angle এমনকি background view পর্যন্ত পছন্দ করতে সময় নিচ্ছে।দম্পতি বিভিন্ন পোজ দিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলেও মনের মত ছবি আসছে না। বর ফটোগ্রাফারের উপর ব্যাপক বিরক্ত। এমন ভাবভঙ্গি করছেন যেন নিজে ছবি তুলে ফটোগ্রাফারকে দেখাতে পারলে খুশি হতেন।
এদিকে এক প্রেমিক প্রেমিকা যুগল উৎসাহ চোখে দম্পতির কাণ্ডকারখানা দেখছে। প্রেমিক তাঁর ললনাকে কি যেন জিজ্ঞেস করাতে , ললনা রাগ দেখিয়ে কিছু একটা বলে উঠলো। প্রেমিক কথাটা শুনেই চুপ হয়ে গেল। তবে এই হালকা রাগের মধ্যেও যে তাঁদের মধুর ভালবাসা তা দূর দৃষ্টিতে দেখেও বোঝা যায়। মাগরিবের আযান ভেসে আসছে। নামায পড়া দরকার। সেন্ট্রাল মসজিদের দিকে গেলাম। রাবি সেন্ট্রাল মসজিদ অপেক্ষাকৃত ছোট।অযু করে নামাযে দাঁড়াতেই বিদ্যুৎ চলে গেল। ব্যাপক গরম পড়েছে। নামায শেষ করে বাইরে এসে একটু ফাঁকা যায়গায় দাঁড়ালাম।রাস্তার বুকে আঁধার নেমে এসেছে।
এই শাহরিয়ার না?
আমি ঘুরে গেলাম।
আরে হ্যাঁ, শাহরিয়ার – ই তো। অন্ধকারে দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল তুই –ই ,বাট ভালো বুঝছিলাম না। তারপর বল, কি অবস্থা? কতদিন বাদে আবার দেখা?
এই যে বাসায় বসে ভালো লাগছিলো না। তাই ভাবলাম যাই ঘুরে আসি। বেড়ানোও হবে সময় কাটানোও হবে।
কিন্তু তুই? সন্ধায় কাম্পাসে কি করিস? কাম্পাস তো বন্ধ?
নিশিন্দা হেঁসে উঠলো। বললো, দুর্গাপুজার ছুটি তো। আমি আসলে আসছিলাম সেন্ট্রাল মন্দিরে। আজকে তো মহা অষ্টমী।
ও হ্যাঁ, কুমারী পুজা আজকে।তাই এত সেজেগুজে আসছিস?
( বলে রাখি মেয়েটার নাম নিশিন্দা চট্টোপাধ্যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।আমার এক পরিচিত স্যার আছে বাংলা বিভাগে, তো সেই স্যার এর চেম্বারেই নিশিন্দার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ। সে ভাল গল্প লিখত এবং এগুলো পত্রিকায় প্রায় নিয়মিতই ছাপা হতো। সেই সময় একই পত্রিকায় আমার কয়েকটা কবিতাও ছাপা হয়েছিল। তখন থেকেই তাঁর সাথে খুব ভালো পরিচয় আমার, কিন্তু মাঝখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ৬ মাস থেকে কমিয়ে ৪ মাস আনার পর ব্যাপক ব্যস্ততায় তাঁর সাথে যোগাযোগ বন্ধই ছিল)।
হ্যাঁ , অন্ধকার হয়ে আসছে। বিদ্যুৎ ও আসছে না এদিকে রিকশাও পাচ্ছি না। বাসায় ফেরা দরকার।
আরে, চিন্তা করছিস কেন? আমিও শহরে যাব। বাইক আছে, তোকে ড্রপ করে দিচ্ছি। চল –
আরে, না না।তুই আবার কষ্ট করতে যাবি কেন?
আমি তো এখন শহর যাবই,খামোখা কষ্ট হচ্ছে না তো। চল তো –
বাইকে উঠে বসলাম।এমনি দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে বাইকে উঠে কিছুটা বাতাস লাগছে।
তা তোর লিখালিখির কি অবস্থা?
এই তো চলছে মোটামুটি। তবে ঘটনা হচ্ছে লিখালিখি করতে যে পর্যাপ্ত সময় দরকার তাঁর অভাব বোধ হচ্ছে ইদানিং। তা আঙ্কেল অ্যান্টি কেমন আছেন?
এই তো রে আছেন মোটামুটি। সৃষ্টিকর্তা রাখছেন আর কি। এমনিতেই বাবার তো ডায়াবেটিস আছে তাঁর উপরে আবার চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমার জামাইবাবু মানে দিদির স্বামী চক্ষু বিশেষজ্ঞ। উনি নিজেই বাবার ট্রিটমেন্ট করছেন।
হুম, বাসায় ডাক্তার থাকার এ এক মহাসুবিধা।
আসলে সত্য কথা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে বাসায় একজন ডাক্তার আর একজন পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনের লোক থাকা জরুরি। হি হি হি – তাইলে এই দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যাবে। নইলে বহুত ভোগান্তি পোহাতে হয়।
হুম , চিন্তা করিস না। তোর বিয়ে যেন কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে হয় সে বিষয়ে বিশদ চিন্তা করা হবে।
আরে না, ধুর। আমার তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পছন্দ। বিশেষত দর্শনের শিক্ষক। সে গুরুগম্ভীর হবে, দর্শনের জটিল তত্ত্বগুলো বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ শেখাবে। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখব আমার পাশে সক্রেটিসের কোন শিস্য ঘুমিয়ে আছে। হি হি হি –
শোন নিশিন্দা, একটা কথা তো সত্য যে মেয়েদের মস্তিস্ক, ছেলেদের মত এতটা জটিলভাবে সব চিন্তা করতে পারে না। তাঁদের মস্তিস্ক স্বাভাবিক ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একই রকম হয়ে থাকে। বেশি শান দিলেও তা খুব একটা ক্ষুরধার হয় না। সেজন্য মেয়েদের scientist or specialist হতে খুব একটা দেখা যায়না।
সেক্ষেত্রে মেয়েরা সাধারন ছেলেদের প্রতিই আকৃষ্ট হয় বেশি। অর্থাৎ কোন বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ,নামী কোন চিকিৎসক বা প্রফেসরের প্রতি তাঁদের আকর্ষণ কম থাকে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। তাঁরা সব সময়ই বস্তুহীন বা লেফাফাদুরস্ত ছেলেই পছন্দ করে থাকে বেশি। কিন্তু তোর সরাসরি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে দর্শনের শিক্ষক পছন্দ করার কারন?
শোন শাহরিয়ার, এখন পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে সব কিছুর ব্যাখ্যা কেউই দিতে পারে নাই। হতে পারে আমার পছন্দ অপছন্দ সব কিছুই কোন অদৃশ্য স্পিরিট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; যেমন ,তোরা বিজ্ঞানে একটা শব্দ ইউজ করে থাকিস – জিন। তো আমার জিনের উপর তো আমার কোন নিয়ন্ত্রন নাই যে তোর তত্ত্ব অনুসারে আমি অন্য সব মেয়ের মত লেফাফাদুরস্ত ছেলেই পছন্দ করবো , তাই না?
আমি ধারনাই করে উঠতে পারি নাই, আমার তত্ত্ব শুনে নিশিন্দা এই রকম একটা revenge type উত্তর দিবে। আমি সাথে সাথে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠলাম, “Nishinda , the greatest geneticist I have ever seen”!
নিশিন্দা লজ্জা পেয়ে গেল।
এই যে, চলে আসছি বাসায়। বলে উঠলো নিশিন্দা
আচ্ছা , ঠিক আছে। যা তাইলে!
কি বলিস? প্রথমবার আমার বাসায় আসলি তাও আবার পুজার মধ্যে। আর ভেতরে যাবি না?
চল, চল। ভেতরে চল। কিছু মুখে দিয়ে তারপর যাবি।
এই না, না। দেরি হয়ে যাবে। এক বন্ধু ফোন দিয়েছিল, সে নিউ মার্কেট দাড়ায়ে আছে। ওর সাথে একটু দেখা করা দরকার। কলেজ লাইফ শেষ করার পর আর তাঁর সাথে দেখা হয় নাই।
আরে, কয়েক মিনিটের জন্য ভেতরে আসলে কি বেশি দেরি হয়ে যাবে। আমি মা কে ডাকছি, দাঁড়া।
মা, মা! দরজাটা খুলে দাও তো।
বন্ধুটি অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বিরক্ত হবে হয়তো। আজকে এসে তোর বাসা দেখে গেলাম, এরপর এসে একদিন খেয়ে যাব, প্রমিস। আজকে না আসলে তুই আর কোনদিনও আসবি না, জানি আমি। এমনি এমনি তো কখনও আসবিই না।
না নিশিন্দা, আমি আসবো বললাম তো। সিউর আসবো।
হুম, জানি তো। সেদিন হয়তো সূর্য দেবতা পশ্চিম আকাশে উঠবেন।
নিশিন্দা আর কিছু বলল না। শুধু গম্ভীর হয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।
কেন ওর জানি বাসার ভেতরে যেতে মন টানছিল না। নিজের অজান্তেই মুখ ফুটে আপনা আপনি বেরিয়ে এলো – ভালো থাকিস নিশিন্দা, দেখা হবে অসীম মহাকাশের অন্তে।
নিশিন্দা কথাটুকু শুনতে পেলো কি না জানি না। তাঁর চলনে কোন পরিবর্তন আসলো না। পৃথিবীতে যখন মায়া বাড়িয়ে লাভ হয় না তখন মায়া যত তাড়াতাড়ি কাটিয়ে ফেলা যায় ততই মঙ্গল।
আর এক মুহূর্ত দেরি করলাম না। সেলফ স্টার্ট দিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
নিশিন্দা আর পেছনে ফিরে কিছু দেখলও না। শুধু দূর থেকে হালকা জোরে খট শব্দে দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পেলাম। অবশ্য তা মনের ভুলও হতে পারে। যাহোক , বন্ধু বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে। বাইকে থাকায় ফোন ধরা হয় নাই। তাকে অনেকক্ষণ আগে নিউ মার্কেট ওয়েট করতে বলেছিলাম। এদিকে নিশিন্দাকে রেখে শালবাগান এসে পুনরায় নিউ মার্কেট আর ব্যাক করতে ইচ্ছে করছে না।
বন্ধুকে ফোন দিলাম। বললাম , বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ এক কাজে আটকে পড়েছি। এখন আর নিউ মার্কেট যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে রাখার জন্য দুঃখিত। দেখা হবে ইনশাল্লাহ –
আমার কথার আকস্মিকতায় বন্ধু কিছু যেন বলতে চেয়েও আর পারলো না।
হঠাৎ কিছুদুর এসে কেন জানি মনটা উদাসীন হয়ে গেল। ঘড়ির দিকে দেখলাম ৯ টা বাজল।
নাহ, কিছুই ভালো লাগছে না। কৃত্রিম মায়ার এই পৃথিবীতে নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হতে লাগলো। কেন জানি মনে হতে লাগলো বন্ধুর সাথে দেখা করা আবশ্যক। অনেক ধুলোজমা কথা লুকিয়ে আছে ভেতরে। ৭ বছর আগে কলেজে পড়ার সময় বহু খুনসুটির সাক্ষী ছিলাম আমরা। কালের বিবর্তনে ফিজিক্সে স্নাতক পড়ার সুবাদে সে রাবি তে আর আমি রাজশাহী র বাইরে আছি।
বন্ধুকে ফোন দিলাম, কই তুই?
এই যে ক্যাম্পাস আসলাম মাত্র, হলে পৌছাইনি এখনও।
ও আচ্ছা, ঠিক আছে ।তুই হলের দিকে আগা, আমি আসতেছি।
লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।


