দেশের পোল্ট্রি শিল্পে আধুনিক পুষ্টি প্রযুক্তির প্রয়োগ ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলানক ফার্মা এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বায়োপ্রোটন পিটিই লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলের কুয়াকাটা হলে অনুষ্ঠিত হলো “Unlock Valuable Nutrients to Maximize Production and Profitability” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তিভিত্তিক সেমিনার।
এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত খামার মালিক, প্রাণিচিকিৎসক, ফিড মিলার, গবেষক এবং শিল্প সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন। মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—ফিডের মধ্যে থাকা অপ্রচলিত ও কমপাচ্য উপাদানগুলোকে এনজাইম প্রযুক্তির মাধ্যমে পুষ্টিতে রূপান্তর করে পোল্ট্রির বৃদ্ধি, উৎপাদন দক্ষতা ও লাভজনকতা বৃদ্ধি।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইলানক ফার্মার হেড অফ অপারেশনস ডা. স্থিতধী চৌধুরী বলেন, “পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য। খামারিদের সচেতনতা ও কার্যকর সমাধান দিতেই আমাদের এ উদ্যোগ।”

ভিডিও বার্তায় বায়োপ্রোটনের জেনারেল ম্যানেজার ড. জুহানি ভন হেলেন্স অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “আমাদের লক্ষ্য টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব ফিড এনজাইম প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়া। ইলানক ফার্মার সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব এরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খ্যাতিমান পশুপুষ্টি বিজ্ঞানী ড. ডারউইন হোরিয়ান্তো। তিনি জানান, ফিডের কমপাচ্য উপাদানগুলোকে এনজাইম প্রযুক্তি দিয়ে ভেঙে পুষ্টি উপযোগী করলে ফিড কনভারশন রেশিও (FCR) উন্নত হয়, উৎপাদন খরচ কমে এবং পাখির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তিনি বায়োপ্রোটনের তিনটি বিশেষ এনজাইম পণ্য Natuzyme X, Natuzyme P ও Natuzyme MG-এর কার্যকারিতা তুলে ধরেন, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি, অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ফিড ব্যবহারে দক্ষতা আনে।
ইলানক ফার্মার প্রোপ্রাইটর ডা. মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিই আমাদের প্রধান শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ ফিড ব্যবহারের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় না, পাশাপাশি পুরো দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।

বর্তমানে দেশের খামারিরা আরও বেশি সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও কার্যকর সমাধান খুঁজছেন। ইলানক ফার্মার হিসেবে আমরা সেই চাহিদা পূরণে আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার সেবার সমন্বয়ে কাজ করছি। আমাদের পণ্য ও সেবা খামারিদের চাহিদা পূরণে এবং তাঁদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে এনে টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও ফলপ্রসূ সমাধান দিয়ে প্রাণিজ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাবো।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইলানক ফার্মার সেলস ম্যানেজার মনিরুজ্জামান সুজন। বায়োপ্রোটনের কান্ট্রি ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. মোজাম্মেল হক, তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এনজাইম প্রযুক্তি জনপ্রিয় করে তুলতে এই ধরনের অনুষ্ঠান বড় ভূমিকা রাখবে।”

সেমিনারের শেষাংশে এক মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং গবেষণাভিত্তিক প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে সমাধান খোঁজেন।
এই যৌথ সেমিনার পোল্ট্রি খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ গড়ে তুলেছে। ইলানক ফার্মা ও বায়োপ্রোটন-এর এই উদ্যোগ প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও আধুনিক ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
সংবাদ লাইভ/ঢাকা
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com