ads
ঢাকাসোমবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বাকৃবিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ও বোয়ারের সংকর জাত: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বাকৃবি প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৪ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে গরু, ছাগল, ভেড়া এবং মহিষের মাংস (লাল মাংস বা রেড মিট) চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। লাল মাংসের মধ্যে ছাগলের মাংস (শেভন) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই খেয়ে থাকে। উৎসব-পার্বন বা অনুষ্ঠানে খাসীর মাংসের বিকল্প নেই। কিন্তু এর দাম সবচেয়ে বেশি, কারণ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। আমাদের প্রচলিত দেশী জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দিয়ে ছাগলের মাংসের পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই বিকল্প খোঁজ জরুরি হয়ে পড়ে। সেই বিকল্প খোঁজার প্রয়াস থেকেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক বোয়ার জাতের পাঠার সাথে দেশী ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগীর সংকরায়নের মাধ্যমে ব্ল্যাক বেঙ্গলের চেয়ে দ্বিগুণ মাংস উৎপাদনকারী একটি সংকর জাত তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতো একই পরিমাণ খাবার দিয়েই এই সংকর জাত থেকে দ্বিগুণ মাংস উৎপাদন সম্ভব। এই গবেষণা দলের প্রধান পশুপালন অনুষদের পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন এবং সহযোগী গবেষক ছিলেন একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ” ডেভেলপমেন্ট অব মিট টাইপ ক্রসব্রিড ইউজিং বোয়ার এন্ড ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট” শীর্ষক একটি দুইবছর মেয়াদী  প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। জার্নাল অব এ্যানিমেল রিসার্চ নামে বৈজ্ঞানিক জার্নালে এ বিষয়ে গত বছরের ২৯ নভেম্বর একটি বৈজ্ঞানিক পেপার প্রকাশিত হয়। গবেষণার আওতায় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাত নিয়ে কাজ করা হয়। অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন জানান, সংকর জাতের ছাগল জন্মের সময় গড় ওজন প্রায় ২ কেজি, যেখানে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের বাচ্চার ওজন মাত্র ৮০০ গ্রাম। এ জাতের ছাগল দেখতে সুন্দর, রঙ সাদা-বাদামী বা কালো।

গবেষণার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল খাসীর ১ বছর বয়সে ৮-১০ কেজি ওজন হয়। কিন্ত বোয়ার ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের সংকর জাতটির ১ বছরে ২৫ কেজিরও বেশি ওজন হয়। এছাড়া স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের ওজনে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষণার সময় এই সংকরের স্ত্রী বাচ্চাদের ১ বছর বয়সে মাত্র ৬ শতাংশের ডাকে এসেছিল। অন্যদিকে ব্ল্যাক বেঙ্গল পাঠীর ৬-৭ মাসেই প্রথম গর্ভধারণ করে। অর্থাৎ ব্ল্যাক বেঙ্গলের তুলনায় এই জাতীয় সংকর স্ত্রী বাচ্চাদের মা হতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগে। এমন অবস্থায় ১ বছর বয়সে লিঙ্গ নির্বিশেষে সব সংকর যদি জবাই করে মাংস উৎপাদন করা হয়, তাহলে কৃষকের দ্বিগুণ লাভ হবে ব্ল্যাক বেঙ্গলের তুলনায়। স্ত্রী সংকর বাচ্চাগুলোকে আর প্রজনন করানোর প্রয়োজন নেই।

বোয়ার জাতের ছাগলের উৎপত্তি দক্ষিণ আফ্রিকায়। যা মাংসের জন্যে বিশ্বখ্যাত। ২ বছরে সর্বোচ্চ ৭০ কেজি মাংস দিতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। এ সমস্যার সমাধানে ব্ল্যাক বেঙ্গল ও বোয়ারের সংকর জাত উদ্ভাবন করা হয়। বোয়ার জাতের ছাগল তার ওজনের ৫৫ শতাংশ মাংস দেয় এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ৪৫ শতাংশ দেয়। এবং মাংসে চর্বিও কম ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। নতুন এ জাতের পুরুষ ছাগল বছরে ২৬ কেজি এবং মাদি ছাগল ২৩ কেজি পর্যন্ত মাংস উৎপাদনে সক্ষম। এই জাতটি রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী এবং সহজে লালন-পালন করা যায়। এর ওজন বৃদ্ধি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দ্বিগুণ, দৈনিক প্রায় ১০০ গ্রাম।

তিনি আরও বলেন, এদিকে আমাদের দেশে জাতীয় প্রজনন নীতিমালায় বø্যাক বেঙ্গল ব্যতীত অন্য জাতের অনুমোদন নেই। এখানে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে অন্য জাতের ছাগলের অনুপ্রবেশ ঘটলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতটি হুমকির মুখে পড়বে। সে কারণে বোয়ার আমদানি হচ্ছে না। অবশ্য অবৈধ পথে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে বারবারি, বিটাল, সিরাহি, তোতাপুরি এবং যমুনাপাড়ী প্রভৃতি জাতের ছাগল এবং তাদের সংকর অহরহ দেশে প্রবেশ করছে এবং এতে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সয়লাব হয়ে গেছে। কিন্তু এদিকে কারও নজর নেই।

তিনি আরও বলেন, বোয়ার জাতের ছাগলের খাবার ও যত্নের পরিমাণ একটু বেশি লাগে। ফলে আমার দেশের খামার ব্যবস্থাপনায় যেখানে ছেড়ে দিয়ে ছাগল পালন করা হয় সেখানে বোয়ারের শতভাগ খাঁটি জাত এদেশের কৃষক ও খামার ব্যবস্থাপনায় ততটা উপযোগী নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে বোয়ার ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের সংকর জাতটি উৎপাদন করলে এসকল সীমাবদ্ধতা এড়ানো সম্ভব। আবার মা যেহেতু বø্যাক বেঙ্গল,  ফলে প্রতিবারে প্রসবকৃত বাচ্চার সংখ্যা কম-বেশী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এই প্রযুক্তির সহায়তা নিতে গেলে কোন এনজিও বা সরকারি সংস্থার হাতে বোয়ারের পাঠা থাকবে তা দ্বারা বø্যাক বেঙ্গল ছাগীর সাথে স্বাভাবিক প্রজনন/ কৃত্রিম প্রজনন করে সংযোগ চাষীর খামারে সংকর বাচ্চা উৎপাদন করতে হবে। অন্যান্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতই শুধু পিপিআরের ভেকসিন দেওয়াটাই যথেষ্ট হবে।

এ বিষয়ে গবেষণা সহকারী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কম খরচে ভোক্তার কাছে গুণগত মাংস পৌঁছে দেওয়া। খামারিরা এ জাত পালন করে বছরে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা করতে পারেন। কারণ একই পরিমাণ খাবার ও পরিচর্চার মাধ্যমে দ্বিগুণ মাংস পাওয়া যায় বোয়ার ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের সংকর জাত থেকে। মাঠ পর্যায়ের গবেষণায়ও আমরা কাঙ্খিত ফলাফল পেয়েছি।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।