ads
ঢাকাশুক্রবার , ১৬ আগস্ট ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

 বিএআরআই ডিজি ড. দেবাশিষ সরকারের চু‌ক্তি‌ভি‌ত্তিক নি‌য়োগ বা‌তিলের দা‌বি‌

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ১৬, ২০২৪ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ড. দেবাশিষ সরকার গত ২১ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এ মহাপরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। এবং গত ২২ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে দুই বছরের জন্য বারির ডিজি হিসাবে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত হন। যোগদানের পর হতে তিনি সরকারী বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন নিয়োগসহ টেন্ডার বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ দ্বিমত পোষণ করলেই বদলিসহ বিভিন্ন নির্যাতনের মুখোমুখি হতেন। সর্বশেষ তিনি গত ০৪-০৮-২০২৪ তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিএআরআই-এর সকল স্তরের বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা/ কর্মচারীগণকে খামার বাড়ি সড়ক ও মানিক মিয়া এভিনিউ-তে কথিত শান্তি সমাবেশের নামে মহড়া ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনে বাধ্য করেন।

ড. দেবাশীষ সরকার ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিএআরআই-এর প্রধান কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল কার্যালয়ে এমন কোন অনুষ্ঠান নাই যেখানে তাকে অতিথি করা না হয় এবং তার জন্য সম্মানী দেয়া না হয়। প্রায়শই একই দিনে তিনি ২ বা ততধিক সম্মানী গ্রহণ করেন। আর তিনি প্রতিটি সম্মানীর ক্ষেত্রে বাজেট যাই ধরা থাকুক সেটা ১০,০০০ টাকার নিচে গ্রহণ করতেন না। কোন অফিস প্রধান তা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বদলিসহ অন্যান্য হয়রানি করা হত।

ড. দেবাশীষ সরকার ডিজি হওয়ার পরে বারিতে বেশ বড় একটা নিয়োগ দেন যেখানে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাই ছিল প্রায় ৭৯ জন। এই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম এর অভিযোগ আছে। এই নিয়োগে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠলে কৃষি মন্ত্রনালয় কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়, কিন্তু কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার ও বিএআরসির চেয়াম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার সিন্ডিকেট সেটা ধামাচাপা দিয়ে রাখে। পরবর্তিতে ২০২৪ সালে আরেকটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে সাথে সাথে নিয়োগ বাণিজ্যের মহোৎসবও চলমান রয়েছে।

ড. দেবাশীষ সরকার তার সবচেয়ে আজ্ঞাবহ বিজ্ঞানীদের বা‌রির প্রকল্পসমূ‌হের পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়ে থা‌কেন। তি‌নি বিএআরআই এর সকল প্রকল্প থে‌কে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। ‌তি‌নি বারির পার্টনার প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত মোট অর্থের ১০ শতাংশ এপিডি-র কার্যালয়ে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য মিটিং এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এই টাকা কি ভাবে এবং কোন খাতে খরচ হবে তা কেউ জানেনা।

ড. দেবাশীষ সরকার জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানিদের বঞ্চিত করে তার আজ্ঞাবহ কনিষ্ঠ বিজ্ঞানিদের পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান ক‌রে‌ছেন। সম্প্রতি তিনি ৫ জন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীকে বাদ দিয়ে তাদের জুনিয়র  ড. মোঃ মোখলেসুর রহমানকে পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন। গবেষণার স্বার্থে বিএআরআই এর ডিসিপ্লিনভূক্ত জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের ডিভিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বর্তমান ডিজি তার আজ্ঞাবহ বিজ্ঞানীদের নিয়োগের জন্য বিএআরআই-এর দীর্ঘদিনের এই সিস্টেমকে ভেঙ্গে ফেলেছেন। এমন কী জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের অন্যত্র বদলী করে কনিণ্ঠ বিজ্ঞানীকে দায়িত্ব প্রদানের অনেক নজিরও তিনি সৃষ্টি করেছেন। এ ভা‌বে তি‌নি বিএআরআই এর গ‌বেষণার চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে ফেলেছেন।

ড. দেবাশীষ সরকার বিদেশে প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ প্রদানের ক্ষেত্রেও দলিয় আনুগত্ব ও তার অনুগত বিজ্ঞানীদের প্রাধান্য দিয়েছেন। সর্বশেষ পার্টনার প্রকল্পে পিএইচডি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও যোগ্যতার মানদন্ডের তোয়াক্কা না করেই টাকার বিনিময়ে এবং আনুগত্বের কারণে ইচ্ছামত পিএইচডি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ড. দেবাশীষ সরকারের ছত্রছায়ায় বিএআরআই তে আওয়ামী বিজ্ঞানীদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যে চক্রের সদস্য হচ্ছে ড. মো. ইকবাল  হক স্বপন, ড. মো. ফারুক হোসেন, ড. মো. সুলতান আহমেদ, ড. সুজিৎ কুমার বিশ্বাস, ড. দীদার সুলতানা চৈতী, ড. রোজিনা আফরোজ ছন্দা, ড. একেএম মাহাবুবুল আলম লিটন এবং জনাব মো. মাহমুদুর রহমান শামীম। এই চক্র বিএআরআই- এর সকল টেন্ডার, ক্রয়, চাঁদাবাজি এবং নিরীহ বিজ্ঞানীদের নির্যাতনের মাধ্যমে বিএআরআই কে আরেক আয়নাঘরে পরিণত করেছে।

ড. ইকবাল হক স্বপন ও ড. দীদার সুলতানা চৈতী বিএআরআই এর টেন্ডার বাণিজ্যের প্রধান হোতা। চৈতী টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য না হয়েও তিনি ২০১৬ সাল থেকে টিইসি এর সকল সভায় অংশগ্রহণ করে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তিনি একদিকে সকল প্রকল্পের ডেস্ক অফিসার হিসাবে সকল ফাইল নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে তার স্বামীর নামে পরিচালিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিএআরআই এর বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্য করে আসছে। অপরদিকে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ও অস্ত্র মামলার আসামি স্বপন দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একছত্র ভাবে বিআরআই এর সকল টেন্ডার ও কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আরেক দুর্নীতিবাজ ও গোপালগঞ্জ প্রকল্পের সাবেক পিডি ড. মো. কামরুজ্জামান প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস না করেই লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

উপরোল্লিখিত সকল অনিয়মের প্রতিবাদ ও ড. দেবাশীষ সরকার এর স্বেচ্ছাচারিতা এবং স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে আজ ১৪-০৮-২০২৪ তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং বিএআরআই এর সর্বস্তরের বিজ্ঞানী,  কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকবৃন্দ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল পূর্বক ড. দেবাশীষ সরকারকে বিএআরআই এর মহাপরিচালক পদ হতে অপসারণ করে অত্র ইনস্টিটিউটের যোগ্যতম বিজ্ঞানীকে মহাপরিচালক পদে পদায়ন এবং সেই সাথে অন্যান্য পরিচালক পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অবিলম্বে নিয়োগের দাবি জানানো হয়। বিএ আর আই তে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত অনিয়ম করে দেয়া বিভিন্ন প্রকল্পসহ সকল পদে নিয়োগ/ পদায়ন বাতিল পুর্বক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের পদায়নের দাবি করা হয়। সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ড. দেবাশীষ সরকার এর অপসারণ পূর্বক বিচারের দাবিও তোলা হয়। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং অত্র ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকবৃন্দ ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারির মহাপরিচালক ড. দেবাশিষ সরকারকে মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।