দিনের আলো ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামতেই মিরপুর-১৪ নম্বরের অস্থায়ী বাজার এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গুটি কয়েক মানুষকে ঘিরে রেখেছেন অন্যরা। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল, মাংস কিনতেই এ ভিড় জমিয়েছেন তারা।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর ও পুলপাড়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। মূলত সারাদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পায়ে হেঁটে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন অসচ্ছল মানুষেরা। পরে সেসব মাংস বিক্রি করতেই এখানে এসেছেন তারা।
স্বল্পমূল্যের এ গোশত হাটের ক্রেতা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। দর কষাকষি করে মাংস কিনছেন তারা। কেউ কেউ আবার খালি হাতেই ফিরছেন।
কাফরুল পুলপাড়ে ভ্যানের ওপর কোরবানির মাংস বিক্রি করছেন মোহাম্মদ গোলাপ। তিনি জানালেন, সারাদিন যারা মাংস সংগ্রহ করেছে সেগুলো আমি ৬০০-৬৫০ টাকায় কিনেছি। সেগুলোই আবার ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
ঈদের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা এসেছেন গৃহিনী রোজিনা বেগম। সারাদিন বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ঘুরে প্রায় ৫ কেজির মতো কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন তিনি।
৩৮ বছর বয়সী এই নারী বললেন, ‘ঈদের জন্যই আসছি। সারাদিনে এই মাংস (প্রায় ৫ কেজি) পেয়েছি। এখন ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছি। কিছুক্ষণ আগেই তিন কেজি একজন নিয়ে গেছে।’
হৃদয় নামে আরেকজন বিক্রতার সঙ্গে কথা হলো, ‘বছরের অন্য সময়ে আমি কাচামালের ব্যবসা করি। আজকে বসে ছিলাম, তাই ঘুরে ঘুরে মাংস সংগ্রহ করেছি। এখন বিক্রি করতে এসেছি।’
অস্থায়ী এই গোশতের হাটে এসেছেন অটোরিকশা চালক ইসলাম মোল্লা। তিনি জানালেন, আমরা অল্প আয়ের মানুষ। বছরের দিন কোরবানি দিতে পারিনি। আবার কারো কাছে চাইতেও পারিনা। তাই এই হাটে এসেছি মাংস কিনতে।’
অন্যদের চেয়ে আলাদা একজনের দিকে নজর গেল। তিনিও এখানে মাংস কিনতে এসেছে। শুরুতে কথা বলতে না চাইলেও পরে জানালেন, সবকিছুর দাম বেড়েছে। পরিবার নিয়ে ঢাকাতে আছি। ছোট সন্তানও আছে। তাদের কথা ভেবেই আজ এখানে গোশত কিনতে এসেছি। কোরবানির মাংস এবং দামও কম। সেজন্যেই এই বাজারে আসা।’


