দেশের অধিকাংশ বন্যপ্রাণী খাঁচায় বন্দী রেখে বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা অসম্ভব। অনুরুপ ভাবে চিড়িয়াখানার নামে বন্দী বন্যপ্রাণীদের ভুল ব্যবহারে কারনে মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর অধিকাংশ রোগের আতুড়ঘর আজ চিড়িয়াখানা। তাই যত্রতত্র চিড়িয়াখানা জৈব সন্ত্রাসের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বন্যপ্রাণীর টর্চার সেল চিড়িয়াখানা বন্ধ করার দাবীতে ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তাদের অভিমত।
বক্তারা বলেন, বিনোদনের নামে দেশের শতাধিক চিড়িয়াখানায় বন্দী অসহায় নির্দোষ হাজারো বন্যপ্রাণীদের বন্দীত্ব জীবনের অবসান না করে এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা অসম্ভব। বিনোদনের নামে চিড়িয়াখানার নিষ্টুর পরিবেশে নির্মমতার কারনে বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় সরকার সকল উদ্যোগ ম্লান করে দিচ্ছে। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, সংরক্ষণ, গবেষণা ও চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনার অধিকার যেমন মৎস্য অধিদপ্তর নয় বরং বন বিভাগের, তেমনি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন বিভাগ কখনো উপযুক্ত প্রতিষ্টান হতে পারেনা বরং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ন্যাস্ত করা উচিত। অনুরুপ ভাবে প্রানি কল্যান আইন ২০১৯ পাস করার নামে ১৯২০ সালে শত বছর আগে প্রনিত জীবজন্তুর নিষ্টুরতা আইন রদ করার ফলে জীবজন্তুর প্রতি নিষ্টুর আচরন করা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্যের যথাস্থানিক সুরক্ষা ও সংরক্ষণ , তাকে তার পরিবেশে থাকতে দেওয়া এবং তাকে অন্য অঞ্চলে প্রবেশ করিয়ে তার দেহের রোগ জীবানু অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পরিবেশকে প্রভাবিত না করতেই সিবিডি কনভেনশন হয়েছে এবং তারই আলোকে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন ২০১৭ প্রনয়ন করছে, যার যথাযথ বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবী।
সেভ দ্যা ন্যাচ্যার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন এনিম্যাল রেসকিউয়ার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান টিয়া চৌধুরী, সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শেখ মাহবুবর রহমান, এনিম্যাল ওয়েল ফেয়ার এক্টিভিষ্ট, রক, রুখসাত হক, আনিকা নাহার, এনিম্যাল প্লানেট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আজিজুল হক হানি, বি ডি এ আর এর পরিচালক সায়েদ নাইমুল ইসলাম, সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক জয়ন্ত দাস, আল নাহিয়ান আবীর প্রমুখ।


