প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’-এর দুর্গম ১৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন ইকরামুল হাসান শাকিল। রোববার (৯ জুলাই) সকাল পৌঁনে আটটায় কাঞ্চনজঙ্ঘা বেসক্যাম্পে পৌঁছান এ অভিযাত্রী।
শুক্রবার দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাকিল নিজেই।
শাকিল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ও সকলের সহযোগিতা, উৎসাহ ও দোয়ায় ‘দ্য গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
এর আগে গত ১০ জুলাই ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যান শাকিল। সেখানে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল-এর আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে ২৫ জুলাই কাঠমান্ডু থেকে রওনা হন নেপালগঞ্জে। পরে সিমিকোটে তিনি পৌঁছান। মূলত সেখান থেকেই ট্রেইলের যাত্রা শুরু করেন এ পর্বতারোহী।
২০২২ সালের ২৮ জুলাই সকাল থেকে অভিযান শুরু করেন শাকিল। এরপর একটানা ৪ দিন ট্রেকিং করে পশ্চিম নেপালের নেপাল-তিব্বত বর্ডারে ৩ হাজার ৬৪২ মিটার উচ্চতার হিলসা গ্রামে পৌঁছান তিনি।
এরপর আগস্টের প্রথম সকালেই হিলশা থেকে মূল অভিযান শুরু করে হোমলা, মোগু, ডোলপা, মানাঙ, গোরখা, রুবি ভ্যালী, ল্যাঙটাঙ, হিলাম্বু, গৌরিশঙ্কর, সলোখুম্বু, এভারেস্ট বেসক্যাম্প, মাকালু ন্যাশনাল পার্ক হয়ে নেপালের উচুঁ-নিচু দুর্গম বিপদজনক পথ পায়ে হেঁটে কাঞ্চনজঙ্ঘা বেসক্যাম্পে পৌঁছান শাকিল।
শাকিল বলেন, ‘দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে ৯৬ দিন। এ ট্রেইলে আমাকে হাঁটতে হয়েছে মোট ১০২ দিন।’
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’ পাড়ি দিতে অতিক্রম করতে হয়েছে ২৯টি কঠিন পর্বতের পাস। যার মধ্যে ১৪টি পাঁচ হাজার মিটারের অধিক উচ্চতার দুর্গম ও বিপদজনক কঠিন পাস। এমনকি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পথ হারাতে হয়েছে অসংখ্যবার, পাহাড় ধ্বসের মতো মৃত্যুকুপ থেকেও ফিরে এসেছি। তবুও হাল ছাড়িনি, স্বপ্ন ভঙের ভয়ে ভেঙে পড়িনি। স্বপ্ন জয়ের পথে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সেখান থেকে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’
বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন শাকিল। তিনি বলেন, ‘সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই দেশে ফিরব।’


