ads
ঢাকামঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

চবির আওয়ামী শিক্ষক অধ্যাপক হারুন এখন বিএনপিতে, হতে চান প্রো-ভিসি!

নিজস্ব প্রতিনিধি
এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ম. কাজী মুহাম্মদ হারুন উর রশীদ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ছিলেন আরবি বিভাগ তো বটেই, কলা অনুষদের প্রভাবশালী শিক্ষক। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য হওয়ায় ক্ষমতা দেখিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করতেন। সিলেকশন বোর্ডে আটকে দিতেন তাদের পদোন্নতি। বিভাগ ও অনুষদের ভিন্নমতের শিক্ষকেরা তার ভয়ে রীতিমতো তটস্থ থাকতেন। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করে সে ছবি প্রতি বছর ফেসবুকেও আপলোড করতেন। শ্রেণিকক্ষে তাকে শিক্ষার্থীরা তেমন না পেলেও তাকে নিয়মিত দেখা যেত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলে সেই অধ্যাপক হারুন এখন হয়ে গেলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি হতে শুরু করেছেন দৌঁড়ঝাপ। এতে সহযোগিতা করছেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছ থেকেও নিয়েছেন ডিও লেটার। সর্বশেষ ধরনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছেও। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা।

আওয়ামী লীগের হলুদ দল থেকে রাতারাতি বিএনপিতে:

অধ্যাপক ড. আ. ম. কাজী মুহাম্মদ হারুন উর রশীদ ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের একজন সক্রিয় সদস্য। হলুদ দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপকমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক এখন বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।

হলুদ দলের দুইজন নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আরবি বিভাগের অধ্যাপক হারুন আমাদের হলুদ দলের একজন সক্রিয় সদস্য। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তিনি আমাদের দলের সাথেই ছিলেন।

চসিক মেয়রের ডিও লেটার:

আওয়ামী লীগের সক্রিয় এই শিক্ষক এখন হতে চান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য। এজন্য সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাকে ডিও লেটারও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এক নেতা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে তিনি বলেন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সপ্তাহখানেক আগে চিহ্নিত আওয়ামী শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনকে প্রো-ভিসি পদের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। একজন আওয়ামী শিক্ষককে মেয়রের ডিও লেটার দেওয়া হতাশাজনক।

শ্রেণিকক্ষে দেখা মিলে না, আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে থাকতেন প্রথম সারিতে

অধ্যাপক ড. হারুনকে শ্রেণিকক্ষে পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পুরো শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৪ থেকে ৫ টি ক্লাস নেন বলে জানিয়েছেন তারা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় তিনি আরবি বিভাগের শিক্ষক হলেও আরবি ভালো করে পড়তেও পারেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

আরবি বিভাগের শিক্ষক হলেও তিনি পড়ান ইসলামের ইতিহাস সংক্রান্ত কোর্সগুলো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি বর্তমানে প্রথম বর্ষে ১০৯ নম্বর কোর্স ইসলামের ইতিহাস, তৃতীয় বর্ষে ৩০৪ নম্বর কোর্স আরবি নাটক ও মাস্টার্সে ৫০৯ নম্বর কোর্স ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস বিষয়ের কোর্স শিক্ষক। অন্যান্য শিক্ষকেরা আরবি ও ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান করলেও তিনি ক্লাসে এসে শীট দেখে বাংলা রিডিং পড়ান বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, হারুন স্যার বছরে ৪ থেকে ৫ টা ক্লাস নেন। তিনি আরবি পারেন না। ইতিহাস ভিত্তিক কোর্সগুলো তিনি শীট দেখে বাংলায় রিডিং পড়ান। আরবি পড়তে কখনও দেখি নাই।

তবে শ্রেণিকক্ষে তার পদচিহ্ন না পড়লেও তিনি রাজনৈতিক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে থাকতেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন

অধ্যাপক ড. হারুন বাংলাদেশ শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশন নামের একটি আওয়ামী পন্থী সংগঠনের চেয়ারম্যান। এই সংগঠনের ব্যানারে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করতেন। জন্মদিন পালনের ছবি ফেসবুকেও শেয়ার করতেন। তার ফেসবুক আইডি ঘুরে এখনও তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের ক্ষোভ

আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার ভয়ে তটস্থ এমন কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা এ।হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন, অধ্যাপক হারুন ক্লাস নিতেন না। তবে নিয়মিত রেজিষ্ট্রার ভবনে ঘোরাঘুরি করতেন। শিক্ষকদের নামে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিতেন। সিলেকশন বোর্ডের সদস্য হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভিন্নমতের শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে দিতেন। সেই শিক্ষক এখন ভোল পাল্টে বিএনপি সেজে প্রো-ভিসি হতে চান। এটা আমাদের লজ্জাজনক। তিনি সিটি মেয়র পর্যন্তও গিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায়ও ঘোরাঘুরি করছেন বলে শুনেছি।

তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আ. ম. কাজী মুহাম্মদ হারুন উর রশীদের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।