নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নবগঠিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নোবিপ্রবি শাখা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দল এর কয়েকজন শিক্ষকও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে এই মিছিল করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় অফিস আদেশ নং ৮২১৯(১৫) এর মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবুও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক শোডাউন আয়োজন করায় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এমন আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল হক ফয়সাল বলেন, “শিক্ষা ও গবেষণার জায়গা রাজনীতির মঞ্চে পরিণত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।”
অন্যদিকে, নবগঠিত ছাত্রদল কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “আমাদের মিছিলটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। এটি মূলত নতুন কমিটি ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সূচনামূলক কর্মসূচি। আমরা সাদা দলের শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি এবং মসজিদে প্রার্থনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে চলার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাসের বাইরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং প্রশাসনের কাছেও একাধিকবার অনুমতির জন্য আবেদন করেছি। রাজনীতি নদীর স্রোতের মতো, এটি সম্পূর্ণভাবে থামানো যায় না।”
মিছিলে উপস্থিত নোবিপ্রবি সাদা দলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু কার্যক্রম চলছে। তবে এই বিষয়ে আমি প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাই না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ. এফ. এম. আরিফুর রহমান জানান, “মিছিল চলাকালীন আমি সংশ্লিষ্টদের ফোন করে দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তারা মিছিল বন্ধ করে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপাচার্য মহোদয় নেবেন।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের অঙ্গীকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তা শোভনীয় নয়। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


