ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে কমিটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে আরেকটি দল গোপনে রাজনীতি পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার (০৮ অক্টোবর) রাত ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রথমে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে— “গবেষণা আর রাজনীতি একসাথে চলেনা”, “ডুয়েটে রাজনীতি গড়ে প্রশাসন কি করে?”, ‘রাজনীতির ঠিকানা এই ডুয়েটে হবেনা’, ‘১ ২ ৩ ৪, পলিটিক্স নো মো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অতিক্রম করে প্রধান ফটকে এসে থামে। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ২১ সিরিজের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একটা দল বলছে রাজনীতির নাকি উপকারিতা আছে। এমন উপকারিতা যেটাতে আমরা তিক্ত হয়ে গেছি এবং যেটা থেকে বের হইতে আমাদের রক্ত ও হাজার হাজার জীবন বলি দিতে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এই উপকারিতা আছে কিছু সংখ্যক লোকের জন্য—যেমন সবজি খাওয়া যায়, টিউশনি না করে বাড়ি থেকে টাকা না এনেও হলে দিব্যি থাকা যায়, ছাদে ওপেনলি সবজি বেচাকেনা করা যায়, একাডেমিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর এখানে ‘আদুভাই’ হিসাবে থাকা যায়। এই ধরনের উপকারিতা ছাড়া আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনীতির কোনো উপকারিতা দেখিনা। আমরা গুপ্ত, প্রকাশ্য সকল রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই ডুয়েটে।”
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর এই কার্যক্রমের কারণে ক্যাম্পাসের ঐক্য নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


