সময় বদলায়, জীবন এগিয়ে চলে নিজের গতিতে। তবু কিছু সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় অটুট থাকে, কিছু স্মৃতি কখনো মলিন হয় না। তেমনই বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্প্রীতির আবেশে এক আবেগঘন মিলনমেলায় মিলিত হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)–এর ২য় ব্যাচের বন্ধুরা। ঢাকার অদূরে পূর্বাচলের একটি মনোরম ছুটি রিসোর্টে শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিনব্যাপী এই পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি কেবল একটি পুনর্মিলনী নয়, বরং সিকৃবির ২য় ব্যাচের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে নতুন করে অনুভব করার এক আন্তরিক উপলক্ষ হয়ে ওঠে। বিশেষ আকর্ষণ ছিল সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডাঃ শহীদুল্লাহ ও ডাঃ আল আমিনের অংশগ্রহণ। দূরত্ব, সময় ও ব্যস্ততার সীমা অতিক্রম করে তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে—সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধন কখনো ভৌগোলিক গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না।
মিলনমেলায় সিকৃবি ২য় ব্যাচের প্রায় সকল বন্ধু সপরিবারে অংশগ্রহণ করায় আয়োজনটি পায় একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক উৎসবের রূপ। বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গে পারস্পরিক পরিচয় ও আন্তরিকতায় বন্ধুত্বের পরিধি ছড়িয়ে পড়ে পারিবারিক বন্ধনে। ভাবী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহারের আয়োজন ছিল এই সৌহার্দ্য ও ভালোবাসারই নীরব প্রকাশ। দিনব্যাপী আয়োজনে মোট ৯৭ জনের উপস্থিতি মিলনমেলাটিকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিশুদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর শিশুদের গান, কবিতা আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশ পুরো প্রাঙ্গণকে ভরে তোলে হাসি ও আনন্দে। স্মৃতিচারণ পর্বে সিকৃবি–র ছাত্রজীবনের দিনগুলো যেন আবার ফিরে আসে—স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাফল্য ও ব্যর্থতার নানা গল্পে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন অনেকেই।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন ডাঃ নাজিম, ডাঃ সঞ্জিত, ড. বাশির, ডাঃ কাহির ও ডাঃ শহীদুল্লাহ। তাঁদের সাবলীল ও আন্তরিক উপস্থাপনায় পুরো আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ব্যাচের সকল বন্ধুবর্গ, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ডাঃ শহীদুল্লাহ, ডাঃ সঞ্জিত, ডাঃ ইজমাল, ড. বাশির, ডাঃ রাশেদ ও ড. নাজিম। তাঁদের সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রমে মিলনমেলাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
সবশেষে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ব্যাচের এই মিলনমেলা ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, মানবিকতা ও পারিবারিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। এই স্মৃতিময় দিনটি সিকৃবি ২য় ব্যাচের বন্ধু ও তাঁদের পরিবারের হৃদয়ে চিরকাল রয়ে যাবে এক অমূল্য স্মৃতির অধ্যায় হয়ে।


