গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার তাঁকে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হচ্ছে।
ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে ১৯৮২ সালে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং গবেষণাগারের উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এম এ রহিমের সবচেয়ে বড় পরিচিতি ও সাফল্য আসে তাঁর উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও অর্থকরী কুলের জাত ‘বাউকুল’ নিয়ে। ১৭ বছরের নিরলস গবেষণার ফসল এই কুল, যা বর্তমানে সারাদেশে ‘আপেল কুল’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। তাঁর এই উদ্ভাবন দেশের অসংখ্য কৃষকের ভাগ্য বদল করেছে এবং ফলের বাজারে নতুন এক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এছাড়া ফল উৎপাদন, কৃষি বনায়ন এবং সংগ্রহোত্তর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ বিষয়ে তাঁর ২২৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক ড. এম এ রহিমের গবেষণার পরিধি বিস্তৃত ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর ও বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৩ থেকে ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশের কৃষি গবেষণাকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করতে ভূমিকা রেখেছে।
ড. এম এ রহিমের এই দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা যুক্ত হয়েছে। তিনি ‘হুজ হু বাংলাদেশ ২০১৭’ পদক, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), নোবেল বিজয়ী ড. নরম্যান ই. বোরলগ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মাননা-২০০৮, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক-২০১৪, খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ স্বর্ণপদক-২০১৬ এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স স্বর্ণপদক-২০১২ অর্জন করেছেন।
স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. রহিমের এই সম্মাননা তরুণ কৃষিবিজ্ঞানীদের জন্য নতুন করে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার এক বিশাল অনুপ্রেরণা।


