ads
ঢাকাবুধবার , ৭ জানুয়ারি ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য

সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলছে বাংলাদেশ

জোবায়েদ হোসেন
জানুয়ারি ৭, ২০২৬ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

[১]

একটা দেশ আরেকটা দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাজটা মূলত কি? চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি নিশ্চয়ই। কিন্তু আমি যদি বলি ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বড় একটা অংশের কাজ এসব না, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় বাংলাদেশিদের নির্মম হত্যা করে পৈশাচিক আনন্দ নেয়া, তাহলে কি ভুল হবে? না, স্রেফ না। কেউ যদি ভেবে থাকেন আমি বিষয়টিকে অতিরিক্ত সরলীকরণ করে ফেলেছি, তাহলে আসুন একটি পরিসংখ্যানে চোখ বু্লাই:

❝২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতের নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের হত্যার সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, যদিও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন—এর মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের ফলে মারা যান। আগের বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২০২৪ সালে ৩০, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিলেট সীমান্ত এলাকায় ভারতের নাগরিকদের, বিশেষ করে খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে নিউ এজ জানিয়েছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে আরও অন্তত ৩৮ জন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ বা নির্যাতনের শিকার হন এবং ১৪ জনকে বিএসএফ অপহরণ করে, যাদের মধ্যে মাত্র চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।❞ (বিবিসি নিউজ, ৪ জানুয়ারি ২০২৬)

তর্কের খাতিরে আমি যদি ধরেও নেই, নিহতদের মধ্যে অনেকেই চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সাথে জড়িত ছিল। তাহলে কি তাঁদেরকে হত্যা করা বৈধ হয়ে গেল? সীমান্ত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির জেল, জরিমানা কিম্বা দন্ড হতে পারে। তাই বলে গুলি করে হত্যা? নির্মম নির্যাতনে মৃত্যু? এ যেন জোর যাঁর, মুল্লুক তাঁর প্রবাদের জ্বলন্ত উদাহরণ।

[২]

সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনাগুলো কতটা সকরুন, স্বচক্ষে না দেখলে বুঝা মুশকিল৷ তারপরও ঘটনার বিবরণ পড়লে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আলোচিত দুই কিশোরী হত্যার নির্মম ঘটনা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

ফেলানী:
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে প্রাণ হারায় ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন। জানা যায়, সেদিন ছিল শুক্রবার, ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারত থেকে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানী খাতুনের। এসময় বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আধা ঘণ্টা ধরে ছটফট করে মৃত্যু হয় ফেলানীর। সকাল পৌনে ৭টা থেকে নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে, দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলন্ত ফেলানীর গুলিবিদ্ধ লাশের ছবি দেশ-বিদেশের মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এরপর মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর ৮ জানুয়ারি শনিবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।

স্বর্ণা দাস:
১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, রোববার রাতে মায়ের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরায় থাকা ভাইকে দেখতে যাওয়ার সময় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে কিশোরী স্বর্ণা দাস (১৪) নিহত হয়।
নিহত স্বর্ণা মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের বাসিন্দা পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। সে স্থানীয় নিরোদ বিহারী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।রোববার রাতে স্বর্ণা ও তার মা সঞ্জিতা রানী দাস ত্রিপুরায় বসবাসরত স্বর্ণার ভাইকে দেখতে স্থানীয় দুই দালালের সহযোগিতায় লালারচক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
তাঁদের সঙ্গে আরও ছিলেন চট্টগ্রামের এক দম্পতি। রাত ৯টার দিকে তাঁরা ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালান।
এতে ঘটনাস্থলেই স্বর্ণা নিহত হয় এবং সঙ্গে থাকা দম্পতি আহত হয়। (কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরীর মৃত্যু, প্রথম আলো, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)

ফেলানী, স্বর্ণা দাস, এভাবে আর কত সীমান্ত হত্যা? যেন সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলছে বাংলাদেশ।

কবি হেলাল হাফিজ বলেছেন:

❝কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা।❞ (বই: যে জলে আগুন জ্বলে)

একাত্তরে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম কিন্তু ফেলানী, স্বর্ণা দাসের মতো বেদনার অঙ্কুরিত কবিতা লিখে চলছি রোজ। কবে আমরা এমন একটি পতাকা পাব, যে পতাকা সীমান্তে বন্ধ করবে ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম তান্ডব।

 

জোবায়েদ হোসেন,

শিক্ষার্থী, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।