ads
ঢাকাশুক্রবার , ৮ নভেম্বর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব: জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম

মতামত বিভাগ
নভেম্বর ৮, ২০২৪ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফারহান আরিফ: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। স্বাধীনতার চার বছর অতিক্রান্ত হলেও জাতীয় জীবনে তখনো বিরাজ করছিল এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তা। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশের উপর চলা চার বছরের দুঃশাসন, ক্ষমতা কুক্ষীগতকরণ এবং বিশৃঙ্খল শাসনকাঠামো মহাদুর্যোগের আকার ধারণ করেছিল। এরই মাঝে ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান এবং সামরিক বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় পুরো দেশ যেন একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছিল। জাতীয় জীবনের অমন ঘোর ক্রান্তিলগ্নে সমগ্র জাতি একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের অপেক্ষায় ছিল। ৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে জনগণের সেই অপেক্ষা ফুরোল; দূর হল সব উৎকণ্ঠা। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ভরাট কণ্ঠে ‘প্রিয় দেশবাসী’ সম্বোধনটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারল। স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে ঘনীভূত হওয়া সকল আশঙ্কার মেঘ এক পলকে সরে গিয়ে উদিত হল নতুন দিনের নতুন সম্ভাবনা।

উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে শেখ মুজিব সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং  স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে সারাদেশে চরম  বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।  শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে অগ্রাহ্য করে  নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে একদলীয় ফ্যাসিবাদী  শাসন-বাকশাল চালু করে। এর ফলে  মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি  স্বাধীনতা খর্ব হয়। সরকারি চারটি পত্রিকা ব্যতীত সকল পত্রিকাকে নিষিদ্ধ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য করা হয়; নিষিদ্ধ করা হয় দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলকে। জনমনে নেমে আসে চরম অশান্তি ও হতাশা।

এরূপ পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট  শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন। বাকশালের অপর একটি অংশ খন্দকার মোশতাক আহমেদ এর নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করে। রাষ্ট্র এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে তখনও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত ছিল। ৩রা নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটার পর সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে চলে যায়। ঐ সময়টাতে জিয়াউর রহমানকে বন্দী করে রাখা হয়। দেশ ছিল তখন কার্যত অভিভাবকহীন। সেনাবাহিনীর মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরোণ্মুখ পরিস্থিতিতে জাসদ ও তার বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে প্রয়াস পায়। তারা ১২ দফা দাবী সংবলিত প্রচারপত্র সাধারণ সেপাইদের মাঝে বিলি করে তাদেরকে উত্তেজিত করে তোলে। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা সাধারণ সৈনিকদের মাঝে ‘সিপাই সিপাই ভাই ভাই; অফিসারদের রক্ত চাই’- স্লোগান ছড়িয়ে দেয়। মূলতঃ বন্দী জিয়াউর রহমানকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছিল। ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেকেন্ড ফিল্ড আর্টিলারির একদল সৈনিক মেজর মুহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে আনে। দূরদর্শী জিয়া পরিস্থিতি অনুধাবন করে কর্ণেল তাহের ও জাসদের পাতা ফাঁদে পা বাড়াননি। তিনি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পুনঃগ্রহণ করে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনায় মনযোগ দেন। একই সাথে মুখ থুবড়ে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে হাত দেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনা। এর মাধ্যমে আধিপত্যবাদি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূচনা হয়। একই সাথে বাংলাদেশে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির পথচলা সুগম হয়। স্বাধী্নতা লাভের পর উল্টো রথে ঘুরপাক খেতে থাকা বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে একটি স্থিতাবস্থার উন্মেষ ঘটে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ছিনতাই হয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফিরে পায়। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতিতে একটি রাষ্ট্রতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জিয়া বাংলাদেশের মানুষের রক্তার্জিত প্রত্যাশা তথা বহুত্ববাদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণের মাধ্যমে একটি আধুনিক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা করেন। মূলতঃ ৭ই নভেম্বর বিপ্লবের সফলতার কারণেই  আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছি। আইনের শাসন, বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছিল।  রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উন্মেষ ঘটিয়ে একটি  স্বনির্ভর  বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।

বর্তমান বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও দেশের সাধারণ জনগণ পুনরায় জিয়ার উত্তরসূরী দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি ও এর নেতৃত্বের প্রতি সেই আস্থা রেখে সম্ভাবনার বীজ বুনছে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক শক্তি অঙ্গীকার করে, সিপাহী জনতার বিপ্লবের সেই ঐতিহাসিক চেতনা ও তাৎপর্য্য ধারণ করে জনগণের মাঝে থেকে জনগণকে সাথে নিয়েই পুনর্বার রাষ্ট্র মেরামতের কাজে আত্মনিয়োগ করবে।

লেখক: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।