বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক তৌহিদা রশীদের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও স্বৈরাচারী আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও তিনি তার প্রভাব ও ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশেষত, নারী কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, দুর্নীতির প্রতিবাদকারীদের হুমকি ও চাকুরিচ্যুত করার ঘটনাগুলো সম্প্রতি আরও বেড়েছে।
গত ২ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে দুই নারী কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ঘটনা সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর আগেও তৌহিদা রশীদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নারী কর্মকর্তাদের উপর মানসিক অত্যাচার ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কোনো তদন্ত হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৌহিদা রশীদ, যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতিগ্রস্থ ও অর্থ পাচারকারী মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং শিবলী রুবাইত উল ইসলামের সহযোগী হিসেবে পরিচিত, তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে, টেন্ডার ও সাপ্লাইয়ের কাজে অনিয়ম, নিজের স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠানের কাজ বরাদ্দ দেওয়া এবং বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের চরিত্র হনন করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মীরা তৌহিদা রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং তার কর্মকাণ্ডের পূর্ণ তদন্ত দাবি করছেন। তাদের মতে, তৌহিদা রশীদ দায়িত্বে থাকলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনতিবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে এইসব অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার হয় এবং সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুনাম পুনরুদ্ধার হয়।
সংবাদ লাইভ/বরি/কক্সবাজার


