ads
ঢাকারবিবার , ১৮ আগস্ট ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

শুভ জন্মদিন প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবি

মতামত বিভাগ
আগস্ট ১৮, ২০২৪ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাকি রিজওয়ান: আজ ১৮ আগস্ট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৪ তম জন্ম দিন। দেশের কৃষি শিক্ষার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানটি কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এক গৌরবময় পথ চলা পেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিক্ষার বীজ বপন করছে, তা আগামী দিনে দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৯৬১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে যুগান্তকারী অবদান রাখা। শিক্ষার মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষাদানের পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অবদান রেখে আসছে। বাকৃবি’র শিক্ষাক্রম দেশের কৃষি উন্নয়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বিভিন্ন অনুষদে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল, কৃষি অর্থনীতি এবং কৃষি উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে নানা রকম গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণাগুলো দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। গত কয়েক দশকে বিভিন্ন জাতের ফসলের উন্নয়ন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগুলো সফলভাবে দেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে উচ্চফলনশীল ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি এবং মৎস্য উৎপাদন পদ্ধতি। এই উদ্ভাবনগুলো দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য ধান ও অন্যান্য ফসলের খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়াও, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধ এবং পশু ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একাধিক সফল প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। এসব গবেষণার সুফল দেশের কৃষকদের নিকট পৌঁছানোর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে থাকে, তা দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাকৃবি’র সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুগান্তকারী উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ পদ্ধতি এবং খাদ্য উৎপাদনের টেকসই মডেল নিয়ে কাজ করা বাকৃবি শিক্ষার্থীরা আগামীতে কৃষি খাতে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের মোকাবিলা করতে হলে বাংলাদেশের কৃষিকে আরও উন্নত করতে হবে। বাকৃবি শিক্ষার্থীরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তারা দেশকে খাদ্য সংকট থেকে মুক্ত করার এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৬৩ বছর ধরে দেশের কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।