মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, লাউ, বেগুন, বরবটি ও টমেটোসহ নানা শীতকালীন আগাম চাষ করা সবজিতে ভরপুর বগুড়া রাজাবাজার। বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন সব ধরনের শাক-সবজি। দোকানগুলোতে শীতের সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে কমতে শুরু করেছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতা। লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার। ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরতে শুরু করছে বাজারে।
সপ্তাহের ব্যবধানে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। তারমধ্য উল্লেখযোগ্য কাঁচামরিচ বিক্রি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা যা খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। শীতকালীন সবজির আমদানী বৃদ্ধির ফলে দাম কমতে শুরু করেছে। এর ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে জনসাধারণের মধ্যে। এদিকে অস্থির হয়ে উঠেছে পেয়াজের বাজার। গত কয়েকদিনের তুলনায় কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, মাসখানেকের মধ্যে বাজারের উত্তাপ আরও কমে আসবে।
সোমাবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বগুড়া রাজাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কাঁচা বাজারগুলোতে দেখা গেছে, ফুলকপি গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা কেজি এখন ৭০ টাকা কেজি। বাঁধা কপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি ছিল এখন ৮৯ টাকা কেজি। পটল গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা কেজি এখন ৪০ টাকা কেজি। বেগুন ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি৷ তরি, ঢেঁড়স সহ বেশ কিছু সবজির দাম ২০-৩০ টাকা কমেছে। কচুর বই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, সিম ১৪০ টাকা কেজি, মিষ্টি লাউ ৫০ টাকা কেজি ও মুলা ৩০ টাকা কেজি।
সুমন আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে শাক-সবজির দাম অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আরেকটু কমলে আমাদের জন্য ভালো হয়। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ, প্রতিদিন মাছ-মাংস খাই না। শাকসবজি খেয়েই বাঁচি, এগুলোর দাম বেশি থাকলে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
দাম প্রসঙ্গে বিক্রেতা শামছুল বলেন, বাজারে সবজির দাম কমেছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সবজির দাম আরও কমে যাবে।
রাজাবাজার আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, বাজারে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। আমদানী বাড়লেই দাম কমে যাবে। আমরা কৃষকদের সাথে কথা বলছি তারা যে শীতকালীন সবজি আগাম চাষ করেছে সেগুলো দুই সপ্তাহের মধ্য বাজারে আসলে বাজারে সবজির দাম আরও কমে যাবে।


