আশরাফুল ইসলাম আকাশ, বগুড়া : আজকের সূর্যোদয় প্রতিটি বাঙালির কাছেই ভিন্নতার। শহীদের রক্তে রঞ্জিত লাল আর শস্য শ্যামলের সবুজে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে এ দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাত কোটি বাঙালি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। এরপর থেকেই ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির কাছে হয়ে উঠে বিজয়ের দিন।
একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। এ ধারাবাহিকতায় বগুড়াতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি।
এদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে বাবা-মা কিংবা শিক্ষাগুরুর হাত ধরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে শহীদ মিনারে হাজির হয়েছে শিশু কিশোরেরা। তাদের কারো হাতে লাল-সবুজের পতাকা, কারো কপালে বিজয়ের স্লোগানের রাবার ব্যান্ড, কেউবা শরীরে চেপে এসেছেন বাংলাদেশের মানচিত্রের অবয়বে তৈরী পোশাক। এসব শিশুদের বিজয়ের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে হাতে তুলি আর রঙ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রশিল্পীরা।
শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা চিত্রশিল্পী অরণ্য সাহার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
অরণ্য সাহা জানালেন, 'আজ মহান বিজয় দিবস। এই দিনটি প্রতিটি বাঙালির কাছেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে অনেক শিশু-কিশোররা বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে আসেন। এসময় বিজয়কে রাঙিয়ে তুলতে তাদের গালে, কলাপ কিংবা হাতে পতাকা, স্মৃতিসৌধ ও নানা ধরনের বিজয়ের স্লোগান এঁকে দিই। এতে করে শিশুরাও বাড়তি আনন্দ পায় পাশাপাশি আমরাও আর্থিকভাবে লাভবান হই।'
ভোড় পৌনে ৭ টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ২২-২৫ জন শিশু-কিশোরের গালে বিজয়ের পতাকা আঁকিয়েছি। এরজন্য সবার কাছ থেকে ১৫-২০ টাকা করে নিচ্ছি। এভাবেই হয়তো আজকের দিন কেটে যাবে। বললেন অরণ্য।
খোকন পার্কের পশ্চিম কোনায় চোখ পড়তেই দেখা মিলল পঞ্চাষোর্ধ আব্দুল মোমিনের। গভীর মনোযোগে হাতের সুনিপুণ কৌশলে ৫ বছর বয়সী শিশুর গালে রঙ তুলিতে বিজয়ের পতাকা আঁকছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাল-সবুজ রঙ্গে ফুটে তুললেন বাংলাদেশের পতাকা।
তিনি বললেন, 'বিশেষ কোনো দিবসে আমাদের ব্যস্ততা খানিকটা বেড়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে শিশু-কিশোরদের শরীরে ট্যাটু এঁকে দিই। দিনশেষে নিজের মধ্যে একটা আত্মতৃপি কাজ করে। এজন্যই এই কাজটি আজও করে যাচ্ছি।'
এদিকে বিজয় দিবসে বাংলাদেশের পতাকা ফেরি করে বিক্রি করছে ৯ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ। মূলত দিবসটিকে কেন্দ্র করেই সে পতাকা বিক্রি করতে এসেছে। প্রতিটি পতাকার দাম রাখছে ১০ টাকা। প্রয়োজনে অনেকেই কিনছেন আবার কেউ কেউ না কিনেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন।
সংবাদ লাইভ/এবি
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com