আজকের দিনটি ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান রবিনের জীবনে একটি বিশেষ মাইলফলক। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন তিনি। দেখতে দেখতে কাটলো ২০টি বছর, আর এই দুই দশকে তিনি শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে রেখে গেছেন অসাধারণ অবদান।
প্রাথমিক দিনগুলোর গবেষণা ও শিক্ষা: শুরুতে ড. রবিন টিস্যু কালচার নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের প্রথমদিকে দ্বিতীয় বর্ষের কোষবিদ্যা, তৃতীয় বর্ষের জেনেটিক্স এবং চতুর্থ বর্ষে উদ্ভিদ প্রজনন ও এমএস পর্যায়ের জেনেটিক্স-এর মূলনীতি নিয়ে পাঠদান করেন। এই ভিন্ন ভিন্ন কোর্স নেওয়ার সুযোগ তাঁর জন্য শিক্ষার্থী ও গবেষক হিসেবে সমৃদ্ধ হওয়ার একটি মাধ্যম ছিল।
নিউজিল্যান্ডে পিএইচডি ও পরবর্তী সাফল্য: ২০০৬ সালে ড. রবিন নিউজিল্যান্ডের মেসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টোরাল স্কলারশিপ অর্জন করেন এবং ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন পিএইচডি সম্পন্ন করে। দেশে ফিরে এসে উদ্ভিদ প্রজননের পাশাপাশি ফসলের মূল নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ২০১৬ সালে গমজাতীয় উদ্ভিদের মূলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের একটি সূত্র আবিষ্কার করেন, যা অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় আন্তর্জাতিক মূল সিম্পোজিয়ামে উপস্থাপন করেন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।
মলিকুলার গবেষণা ও জাত উদ্ভাবন: ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় মলিকুলার ও বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে গবেষণা করেন ড. রবিন, যা থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। দেশে ফিরে এসে তিনি ফসলের উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবনকালীন এবং রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে কাজ শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে সরিষার অল্টার্নারিয়া রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চ মাত্রায় অলীক এসিড সমৃদ্ধ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করা হয়, যা কৃষকদের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি শিক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা: ২০১৮ সালে কৃষি অনুষদের তৎকালীন ডিন প্রফেসর ড. জহির উদ্দিন স্যারের অনুপ্রেরণায় ড. রবিন এমএস ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্যাটিস্টিকাল প্যাকেজ প্রোগ্রাম চালু করেন, যা পরে অনলাইনেও পরিচালিত হয়। ২০২০-২০২৩ সালের মধ্যে তিনি প্রথমে কমিটির সদস্য হিসেবে এবং পরে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কৃষি অনুষদের আওতায় ‘এমএস ইন এগ্রোমেট্রোলজি’ কোর্স চালু করেন।
গবেষণায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা: ২০ বছরের গবেষণা জীবনে ড. রবিন বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বর্তমানে তিনি উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর অধীনে কাজ করা অনেক ছাত্র-গবেষক আজ দেশ-বিদেশের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ড. রবিন বলেন, “গবেষণার উন্নতির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও কোলাবরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
২০ বছর পূর্তিতে তিনি সবার কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।


