পীর নাঈমুজ্জামান নাঈম: বর্তমানে আমাদের দেশের শিক্ষা কাঠামো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। আজ শিক্ষা শুধু সনদ নির্ভর হয়ে পড়েছে। সনদ কি শুধু দক্ষতার সূচক নির্দেশ করে এটার উত্তর হচ্ছে না। তাহলে দক্ষতার সূচক নির্দেশ করে উপর্যুক্ত মূল্যায়নে। শিক্ষার মূল্যায়ন বলতে বুঝায় কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান দানের পর শিক্ষার্থীরা কতটুকু অর্জন করে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে তাদের বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পেরে সাফল্য অর্জন করবে। মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপ রয়েছে এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরীক্ষা কিন্তু এটি চিন্তা করলে ভুল হবে যে পরীক্ষাই একমাত্র মূল্যায়নের মাধ্যম নয়।
শিক্ষার বাস্তব ফল পেতে হলে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আনতে হবে পরিবর্তন বিষয় ভিত্তিক শিক্ষার পর বিভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের যাছাই করতে হবে এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে কেস স্টাডি, মক টেস্ট, যাতে করে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধান করতে আগ্রহী হয় এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারে।
আমাদের দেশে তথাকথিত পরীক্ষা পদ্ধতি কার্যক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। যা বাস্তবে কাজে লাগছেনা। বিভিন্ন পর্যায়ে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত করেছে। তাদের মুখস্ত নির্ভর করে তুলেছে যার দরুণ তারা জ্ঞান অর্জন করা থেকে পাবলিক পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। যার ফলে মুখস্ত বিদ্যার বুলি তাদের মস্তিষ্ক গিলে খাচ্ছে এ প্লাস পাওয়ার জন্য। আবার অনেকেই এ প্লাস না পেয়ে হতাশা কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে শিক্ষা কি শুধু এ প্লাসে সীমাবদ্ধ?
প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ প্লাস পাচ্ছে যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু কতজন তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারছে কতজন জ্ঞান অর্জন করছে, কতজন গবেষণামুখী হচ্ছে তার হার নগণ্য। প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবী এখন স্থির নয়। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে স্থির থাকলে হবে না প্রয়োজনে মূল্যায়ন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে কার্যকর এবং বাস্তব ভিত্তিক করে তুলতে হবে মনে রাখতে হবে যাতে আমরা বর্তমানে বিশ্বে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারি।


