ads
ঢাকাশনিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৫
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

শহীদ খালেদ দিবস: একটি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসের অবলম্বন

মতামত বিভাগ
জানুয়ারি ১১, ২০২৫ ৫:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো.মানছুর রহমান: ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি, ছাত্রদলের প্রথম শহীদ এবং বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক এটিএম খালেদ বীরপ্রতীক তার জীবন উৎসর্গ করেন। ১৯৮০ সালের এই দিনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের আক্রমণে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আজ তার ৪৩ তম শাহাদত বার্ষিকীতে আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, তার অবদান ও ত্যাগের জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এটিএম খালেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা, যিনি ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যুদ্ধের মাঠে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। কোদালকাটি ও চিলমারী অঞ্চলের যুদ্ধের মাধ্যমে তার সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে তার মৃত্যুর পর, ছাত্রদলের আন্দোলন ও দেশের রাজনীতিতে তার ভূমিকা আরও গভীর ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

এটি একটি বীরত্বপূর্ণ গল্প, যেখানে একজন যুবক তার মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেন। তার ত্যাগের কারণে আজকের ছাত্রদল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তার নাম চিরকাল স্মরণ করবে।

১৯৭১ সালে তিনি ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতার পর সেখানে পুনরায় ভর্তি হন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে নিজ এলাকায় আধুনিক কৃষিচাষে আত্মনিয়োগ করার। কিন্তু তাঁর সে আশা আর পূরণ হয়নি। পরে তিনি জড়িয়ে পড়েন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে। খেলাধুলায়ও ছিল তাঁর বেশ উৎসাহ। এজন্য তাঁর জীবনের কয়েকটি বছর নষ্ট হয়ে যায়। ১৯৭৯-৮০ সালে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন এবং তিনি খালেদ দুলুর অসীম সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। জিয়াউর রহমান তাঁকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক করে কমিটি ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল গড়বার জন্য গুরুদায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্ব যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে গিয়ে নিজের পরিবার পরিজনের কথা ভুলে গিয়ে ছাত্রদল গঠন করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছাত্ররা খালেদ দুলুর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন কারণ সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী। ১৯৮০ সালের জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখ গভীর রাতে অর্থাৎ ১১ জানুয়ারী বীরপ্রতীক এটিএম খালেদ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের আক্রমনে শাহাদত বরন করেন। উনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্রদলের অসীম সাহসী বীরেদের পাল্টা আঘাতে বাকৃবি ছাত্রলীগের তিনজন ঘাতক ক্যাডার নিহত হয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটিএম খালেদ যেমন ৭১-এ রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তেমনি ছাত্রদলের ইতিহাসের প্রথম শহীদ। মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য এটিএম খালেদ বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন।

এটিএম খালেদ দুলুর অবদান শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি ছাত্রদলের গঠন ও সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ স্থাপন করেছেন। তার আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেছে এবং এটি তাকে দেশের ইতিহাসের অমর বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আজকের দিনে, যখন আমরা “শহীদ খালেদ দিবস” উদযাপন করি, আমরা শুধুমাত্র একটি বীরের স্মরণ করছি না, বরং তার আদর্শ, সাহস, এবং সংগ্রামের চেতনাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংকল্পাবদ্ধ হচ্ছি। আজকের ছাত্রদলের প্রতিটি সদস্যের জন্য এটিএম খালেদ দুলুর জীবন একটি অনুপ্রেরণা, যা আমাদের সংগ্রামের পথকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।

এটা মনে রাখা উচিত, শহীদ খালেদ দুলুর স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং তার অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধুমাত্র তার জন্মদিন বা শাহাদত বার্ষিকীতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি দিনই তার আদর্শ ও আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের কর্তব্যের প্রমাণ হওয়া উচিত। তার স্মৃতি আমাদের সবার জন্য একটি শক্তি, যা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে

লেখক: কৃষিবিদ ও যুগ্ম আহবায়ক, বাকৃবি ছাত্রদল।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।