আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সমীকরণটা দারুণ ছিল। হয় মারো না হয় নিয়ে মরো! কি দুর্দান্ত একটা সমীকরণ ছিল তাই না? আফগানিস্তানের ব্যাটিং দেখার পর মনে হয়েছে এমন কিছুই আজ হতে যাচ্ছে কিংবা অনেক বড় একটা সুযোগ এসেছে।
টিভি স্ক্রিনে একটু পরপর দেখানো হচ্ছিল ১২.১ ওভারে বাংলাদেশ জিতলেই সেমি ফাইনালের টিকিট পাবে। অন্যদিকে কোনোমতে জিততে পারলে ইতিহাস গড়বে আফগানি পাঠানরা।
আজ টাইগারদের যে লক্ষ্য ছিল আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে দেশ তো পরের কথা, যে কোনো সহযোগী দেশ হলেই সেই সুযোগটা লুফে নিতে। কিন্তু সেই ইন্টেন্ট আমরা কতটুকু দেখিয়েছি?
সত্যি বলতে লিটনের ম্যাচ ক্যারি করা কিংবা তাওহীদ হৃদয়ের চড়াও হওয়ার বাইরে আর কারো ইনিংস আমার নজরে পড়েনি। বাকিগুলোর কথা এখানে বলে লজ্জার উদাহরণ টানতে চাইনা। টেলএন্ডাররা কখনোই ম্যাচ জেতাতে পারেনি, তাই তাদের দিকে তীর ছুড়ে লাভ নেই। হয়তো কালে-ভদ্রে দুই একটা ম্যাচ জিতিয়েছে।
আমরা তো দেশের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চড়তেই ভয় পাই। অথচ আশা করি এভারেস্ট জয় করব। কথাটা বলার কারণ এই, আমাদের যোগ্যতার চেয়ে এক্সপেকটেশন অনেক উঁচুতে। এটা কি অস্বীকার করতে পারবেন কেউ?
আজ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকার আগে গর্জন দিয়েছে সোনার ছেলেরা, সেটাও হয়তো কেউ দেখাতে পারবেন না? সবচেয়ে বড় কথা বড় টুর্নামেন্ট গুলোতে ভালো করতে হলে কনসিসটেনসি ধরে রাখতে হবে। যেটা টাইগার ক্রিকেটের সামর্থ্যের বাইরে। অহেতুক ভাগ্যের দোষ দিয়ে লাভ কি?
আরেকটি প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে, আমাদের মানসিক উন্নতির সাধন হবে তো? মনে হয় এই সুযোগ কমই। কারণ, আমরা জাতিগতভাবেই এমন, হারার আগেই হেরে যাই। যা আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। দুই-একজন অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে। তারা সফলতাও পাচ্ছে।
সবথেকে বড় প্রশ্ন সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট চলে হাওয়ার উপরে। এত এত ব্যর্থতা তবুও কেন এক সখিতেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হতে চায় বিসিবি! তাদের ইংলিশ, অজি কিংবা বিসিসিআইয়ের মতো বুকের পাঠা নেই। এইজন্যই আজ এই অবস্থা। তাই তারা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিড দিচ্ছে।
কথায় আছে, "আমাকে শিক্ষিত মা দাও। আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।" যেখানে মায়েরই এমন অবস্থা সেখানে তার সন্তানরা কি উপহার দিবে?
২০১১ ও ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে হোঁচট খাওয়ার পর বেশ নড়েচড়ে বসেছিল ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড। এরপর তারা বিশ্বমঞ্চে কি করেছে, তা আমরা সবাই দেখেছি। পরের ৯ বছরে দুইটা মেজর ট্রফি তাদের ঘরে গিয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ আছে।
সবশেষ কথা দেশের ক্রিকেটকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন আমূল পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের সময় এখনই। আমার এই স্ট্যাটাস বা আলোচনা হয়তো কারো চোখে পড়বে না ঠিকই। কিন্তু যাদের চোখের ও নখের ইশারায় দেশের ক্রিকেট চলে অন্তত তাদের উচিত ক্রিকেটপ্রেমী মানুষদের ক্রিকেটের আতুরঘরের মসনদে বসানো।
ক্রিকেট বাঁচবে, নতুন স্বপ্নে প্রহর গুনবে ১৮ কোটি ক্রিকেট পাগল মানুষ।
লেখা- আশরাফুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেয়া।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com