হোপস অফ হিউম্যানিটি সেন্টার এর উদ্যোগে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে ৮ দিনব্যাপী তীব্র মার্শাল-আর্টস আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আনন্দ মহল কলেজ ও নাসিরাবাদ ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত মোট ৩০ জন তরুণী অংশগ্রহণ করছেন।
চীনা ও জাপানি মার্শাল-আর্টস কৌশলভিত্তিক এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন প্রশিক্ষক ইসরাত জাহান ও ইব্রাহিম খালিল। প্রতিদিন থাকছে ব্যবহারিক সেশন, কৌশল অনুশীলন, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম। প্রশিক্ষণসূচিতে হাতে-কলমে অনুশীলন, জোড়া-অভ্যাস, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন এবং প্রতিদিনের রিফ্লেকশন সেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীলতা এবং অবিচলিত আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের ডিওয়াইএম নুসরাত জাহান এবং হোপস অফ হিউম্যানিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম সাজ্জাদ উল ইসলাম। তারা তরুণীদের উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধকরণ বক্তব্য প্রদান করেন।
নুসরাত জাহান বলেন, তরুণী-মেয়েদের ব্যবহারিক আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ে, আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে এবং তারা সমাজে আরও সক্রিয় ও দায়শীল ভূমিকা নিতে সক্ষম হয়। ব্র্যাক এমন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে অংশীদার হয়ে গর্বিত।
এসএম সাজ্জাদ উল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসই ব্যক্তিকে ক্ষমতায়িত করে। চীনা ও জাপানি মার্শাল-আর্টসের এই কঠোর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার কৌশলই শিখবে না, বরং নিয়মবোধ, ধৈর্য্য ও নেতৃত্বগুণও অর্জন করবে।
প্রশিক্ষক ইসরাত জাহান জানান, আমাদের প্রশিক্ষণ ধ্যান-ধারণা হলো কৌশলগত অনুশীলন ও মানসিক প্রস্তুতির সমন্বয়। অংশগ্রহণকারীরা ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সঠিক প্রতিক্রিয়া এবং আত্মবিশ্বাস গঠনে দক্ষ হবে।
অন্য প্রশিক্ষক ইব্রাহিম খালিল বলেন, মার্শাল-আর্টস কেবল শারীরিক কৌশল নয়—এটি মানসিক দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা। এই আট দিনে আমরা কৌশল, প্রতিক্রিয়া ও বাস্তব পরিস্থিতির অনুশীলন করব যাতে অংশগ্রহণকারীরা শক্তিশালী হয়ে উঠেন।
হোপস অফ হিউম্যানিটি সেন্টার যুবক্ষমায়ন, সম্পদশীলতা এবং কমিউনিটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়ে হোপস অফ হিউম্যানিটি সেন্টার দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনোদ্ধারমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।


