ads
ঢাকাশনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

ভাষা আন্দোলনের অপ্রকাশিত অধ্যায়: তমদ্দিন মজলিস থেকে ইতিহাসের বিতর্কিত নায়ক

মতামত বিভাগ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৫:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুলতান সাজেবুল সোহান:

ভাষা আন্দোলন এবং তমদ্দিন মজলিস—এই দুটি নাম ইতিহাসের পাতায় বারবার উচ্চারিত হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে। প্রতিটি আন্দোলনই মূলত সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, পরবর্তীকালে কিছু নির্লজ্জ রাজনৈতিক দল সেই আন্দোলনকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি হিসেবে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রবণতা নতুন নয়। প্রধান প্রধান আন্দোলন একেক সময়ে একেক দল নিজেদের বলে দাবি করেছে। জুলাই আন্দোলনেরও যেন বাপ-মা নেই—এনসিপি বলে তাদের, ছাত্রদল বলে তাদের, শিবির বলে তাদের, ছাত্রলীগ বলে আমেরিকার।

আসল ঘটনাটি ঘুরে ফিরে আসে তমদ্দিন মজলিসে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক আবুল কাশেমের ইসলামি সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির অগ্রদূত। মজার বিষয় হলো, শুধু ইসলামপন্থীরাই নয়, কলা ও বামপন্থীরাও এখানে লিখতেন। জিন্নাহর ভাষণের বহু আগেই তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই—এই দাবিতে লেখালেখি করছিলেন। দেশের বড় বড় বুদ্ধিজীবীরা এখানে যুক্ত ছিলেন। এমনকি পাকিস্তান ঘরানার রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বও রাষ্ট্রভাষা বাংলা হোক—এই মত পোষণ করতেন। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শুরুতে নীরব থাকলেও, পরবর্তী সময়ে মাওলানা ভাসানী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর যোগদানের পর ছাত্রলীগও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়।

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কমিটিতে একেবারে শেষের দিকে যুক্ত হন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সাম্যবাদী দলের তোয়াহা। নজরুল জনপ্রিয় হলেও তোয়াহা তেমন জনপ্রিয়তা পাননি। ইতিহাস কখনো কখনো নিরুপায় এবং নিয়ন্ত্রণহীন—এখানেই তার স্বভাব। লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, এখনকার অনেক বামপন্থী নিজেদের নাস্তিক বা কেবল সাংস্কৃতিক ধারার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিলেও, তখনকার বামপন্থীরা ইসলামি সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় শহীদ মিনারে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন হতো, অন্য ধর্মের মানুষ প্রদীপ জ্বালাতেন। আজ আমরা অনেক সময় প্রথমটিকে নতুন মনে করি, আর শেষেরটিকে ঐতিহ্য বলে মেনে নিই।

এবার ইতিহাসের আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায়ে আসা যাক। ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর লিয়াকত আলী খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি মানপত্র পাঠ করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তোলা হয়। তৎকালীন ডাকসু জিএস গোলাম আযম সেই মানপত্র পাঠ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিই ভাষা আন্দোলনের প্রারম্ভিক দাবিদারদের একজন ছিলেন—এটি ইতিহাসের এক জটিল ও বিতর্কিত দিক। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাঁর চাকরি গেছে এবং তিনি কারাবরণও করেছেন—এমন তথ্যও আলোচিত হয়।

নব্বইয়ের দশকে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তখন দেয়ালে লেখা হতো—“ভাষাসৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম।” যদিও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমর এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, ঘটনাটি বিকৃত বা অতিরঞ্জিত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তখনকার ভিপি অরবিন্দ বোসকে দিয়ে কেন মানপত্র পাঠ করানো হলো না। তিনি হিন্দু হওয়ার কারণেই কি তা হয়নি? মুসলিম লীগ সরকার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারত—এমন যুক্তিও দেওয়া হয়।

ইতিহাসের প্রকৃতি এমনই—একই মানুষকে সে কখনো নায়ক বানায়, কখনো ভিলেন। কে কী মানল বা মানল না, ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই বহমান।

লেখক: কৃষিবিদ

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।