ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপি অঙ্গ সংগঠন সেচ্ছাসেবক দলের ভাঙ্গা উপজেলার আহ্বায়ক সিকদার সাইদুর রহমান মিঠু ও যুবদল নেতা প্রিন্স সহ বৈষম্য বিরোধী সমন্বয়ক ওসমান গনি আকাশ সহ ৮-১০ জন নেতা কর্মীর নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সাংবাদিক আব্দুল মান্নান তার ফেসবুক আইডিতে ও দৈনিক যুগান্তরে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় তাকে হলুদ সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে তাকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্য বিরোধী সমন্বয়ক সহ বিএনপি'র শত শত নেতা কর্মী। রোববার সকালে ভাঙ্গা ঈদগাহ মসজিদ থেকে ব্যানার হাতে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড় হয়ে উপজেলা চত্বর দিয়ে ঘুরে বাজারপাড় থানার সামনে দিয়ে এসে ঈদগাহ মাদ্রাসায় এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সিকদার সাইদুর রহমান মিঠু বলেন, ভাঙ্গাতে সার্বিক পরিবহনের কোন কাউন্টার নেই অথচ সাংবাদিক মান্নান সংবাদে লিখেছে বৈষম্য বিরোধী নেতা ও বিএনপি নেতা মিলে সার্বিক পরিবহনের কাউন্টার দখলের চেষ্টা করেছে। আমরা সেদিন আমাদের এক নিকট আত্মীয়কে সার্বিক পরিবহনে তুলে দিতে চেকারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে চেকারের সাথে আমাদের মতের অমিল হলে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয় মাত্র। এটাকে পুঁজি করে সাংবাদিক মান্নান আওয়ামী লীগের দালাল আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে। সাংবাদিক মান্নান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর খুবই ঘনিষ্ঠজন। ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের সুযোগে ভাঙ্গা থানার ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করিতেছে। মান্নান প্রশাসনকে ব্যবহার করে অসহায় পরিবারগুলোকে জিম্মি করে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে জেল হাজতে ঢুকিয়ে রেখেছে। একই সাথে সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে প্রতি অটো গাড়ি থেকে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে তুলে সে। তার সাংবাদিকের ভিজিটিং কার্ডের পিছনে সিল দিয়ে সাক্ষর করে এইসব টাকা দীর্ঘদিন যাবত সে উত্তোলন করে আসছে। থানা প্রশাসনকে উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে নিজেই একাধিকবার জেল খাটা অপরাধী। মানব পাচার, মানি লন্ডারিং গুম সহ একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকায় পুলিশ ও কোট কাচারির সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। সুযোগ সন্ধানী মান্নান নিজের অপকর্মকে সাংবাদিকের ব্যানার দিয়ে সব সময় ধামাচাপা দেয়। আমরা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করাতে আমাদের উপর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল এই মান্নান। আমরা একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর। অশিক্ষিত ও ভূমিদস্য ক্রাইম মান্নান কিভাবে যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করে তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ভাঙ্গা সমন্বয়ক ওসমান গনি আকাশ তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এই আব্দুল মান্নান কাজী জাফরুল্লাহকে ব্যবহার করে ভাঙ্গা পৌরসভার মতো জায়গায় মক্কা টাওয়ার, মদিনা টাওয়ার, গ্রীন টাওয়ার সহ মোট চারটি টাওয়ার নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও পৌরসভার ভিতরে কৈডুবী সদরদীতে একদাগে বেশ কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেছে সে। সব মিলিয়ে তিনি অর্ধশত কোটি টাকার মালিক। একজন সাধারন ফোন ফ্যাক্সের ব্যবসায়ী থেকে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে কিভাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হলেন তার খতিয়ে দেখতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিএনপির ছাত্রদল নেতা আব্দুল বিন হাসান বলেন, সাংবাদিকের অন্তরালে এই মান্নান ও কাউলিবেড়া মাদ্রাসার সুপার শফিক মাদানী মিলে সৌদির অর্থায়নে বাংলাদেশে অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মসজিদ ও আর্সেনিকমুক্ত টিউবলগুলো সৌদি সরকার বাঙালি জাতির জন্য ফ্রি দিয়েছিল। অথচ এই মান্নান প্রতিটি মসজিদ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ও আর্সেনিকমুক্ত কল থেকে ২০ হাজার করে টাকা গোপনে নিয়েছে। এভাবে সমগ্র বাংলাদেশে ৪ শতাধিক মসজিদ তারা দুর্নীতি করে নির্মাণ করেছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি অনতিবিলম্বে উপযুক্ত তদন্ত সাপেক্ষে কথিত এই হলুদ সাংবাদিকের অর্থের উৎস অনুসন্ধানে দুদুক অভিযান করবে।
বিক্ষোভ মিছিলের যোগদানকারী শত শত নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে বলতে থাকেন, সাংবাদিক মান্নানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে রক্ষার জন্য প্রশাসনকে জরুরী হস্তক্ষেপের কামনা করা হয়।
সংবাদ লাইভ/রাজনীতি
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com