বুদ্ধিজীবীদের পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া মেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক। গতকাল রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন,প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে সুশিক্ষায় রূপান্তর করতে পারে সেই জাতিটা এই ধরনের ইন্টেলেকচুয়ালসের আবির্ভাব ঘটে। সক্রেটিসের দিকে তাকান, সক্রেটিস কেন এত বিখ্যাত কারণ তার মৃত্যুটা ছিল মহান। তারপরে এই যে আবু সাঈদ কেন বিখ্যাত হলো, তার মৃত্যুটাও মহান। ওসমান হাদিকে কেন মারার চেষ্টা করল তার সুপার ইন্টেলেকচুয়ালিটির জন্য। সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে যদি থেকে থাকে এক দুই পিস তিন পিস সৎ বুদ্ধিজীবী থেকে থাকে, ওসমান হাদি অন্যতম একজন। আপনি তাকে মেরে ফেলতে পারেন, আপনার সেই শক্তি আছে, হ্যাঁ করতে পারেন। একটা বুলেট দিয়ে হয়ত একজনের জীবনানন্দ ঘটানো যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। হাদিরাই হচ্ছে কিংবদন্তী বুদ্ধিজীবী।
অথচ সমাজে এরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত না, যেমন সক্রেটিস ছিল না। জিউসকে যখন গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল কেউ একজন এই পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি জ্ঞানী কে? সে উত্তর দিয়েছিল সক্রেটিস। সক্রেটিস বলল আমার তো বাস্তবিক অর্থে কোন জ্ঞান নেই তাহলে আমি কিভাবে সবচাইতে জ্ঞানী মানুষ হই। তখন সে সমাজে প্রচলিত জ্ঞানীদের কাছে গিয়েছে, কবিদের মধ্যে সবচাইতে বড় কবির কাছে গিয়েছে, দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দার্শনিকের কাছে গিয়েছে, তারপরে সাহিত্যিকদের সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক, এদের সবার সাথে কথা বলছে; পরে দেখছে সমাজে যারা আসলে জ্ঞানী বলে পরিচিত প্রকৃত অর্থে তাদের কোন জ্ঞান নাই, বরঞ্চ যারা একটু কম জ্ঞানী হিসেবে পরিচিত তাদের জ্ঞান আছে।
তখন সক্রেটিস বলল এই যে আমার যে কোন জ্ঞান নাই, এটাও যে একটা জ্ঞান; এই জ্ঞানটা যে আমার আছে এইজন্যই হয়তো জিউস দেবতা বলেছে আমি পৃথিবীতে সবচাইতে জ্ঞানী।
আমাদের দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা হইছে এরকম। এই বুদ্ধিজীবীরা খালি বুদ্ধি বিক্রি করে খায়। অমুক দল তমুক দল, অমুকের অনুসারী, অনর্গল মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করে নিজের পকেটে টাকা পয়সা ঢোকায়।
সেই বুদ্ধিজীবীরা ১৯৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর মরে নাই।যারা মারছে,আপনারা আরেকবার একটু দেখেন; এটা ডেফিনেটলি পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া মেরেছে,এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন,বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দেশীয় দোসররাই পরিকল্পিতভাবে এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই অপরাধের সঙ্গে সরাসরি ভারতকে জড়ানোর মতো কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই এমন দাবি ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।
একইভাবে, বর্তমান সময়ের বুদ্ধিজীবীদের সবাইকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশের পুরো বুদ্ধিজীবী সমাজকে হেয় করা। বুদ্ধিজীবী হওয়া কোনো দলীয় পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং সত্য, বিবেক ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসই একজন বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত পরিচয়। ইতিহাস বিকৃত করা নয়, ইতিহাসের সত্যকে ধারণ ও রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।
তিনি এযন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, আমি বলেছি,এখন সময় এসেছে ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবীদেরকে কারা হত্যা করেছে সেই ইতিহাস পর্যালোচনার। ২৪ এর বিপ্লবে যেভাবে ভারত আমাদের সন্তানদের হত্যা করে ফ্যাসিস্টের সহায়তায়, এই চোখে দেখা ইতিহাস ও ৭১ এফ ইতিহাস বিকৃতি নানাবিধ কারণে মনে প্রশ্ন জাগায়, ডেফিনেটলি পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া বুদ্ধিজীবীদেরহত্যার সাথে জড়িত কিনা। এব্যাপারে গবেষণা হওয়া উচিত, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, এরকম কোনো বক্তব্য উনি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। আমি ওখানে উপস্থিত ছিলাম, আপনি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতেছেন।
উল্লেখ্য,এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের এক আয়োজনে তিনি বলেন, আমি হাফিজ কখনোই বিশ্বাস করিনি বাংলাদেশ স্বাধীন।


