আর্শিনা ফেরদৌস: নতুন বই, আমার অন্যতম প্রিয় ভ্রমণগদ্য ফরিদুর রহমানের “প্যাপিরাসের পুরনো পাতা “। গতবছর বইটি প্রকাশিত হয়েছে, আমি এবার হাতে পেলাম। মিশরের “পিরামিড” ” ফারাও “এর বাইরে অনেক কিছু আছে, যা এই বই না পড়লে জানা হতোনা। অনন্য বিবর্তন এর বিবরণ তুলে এনেছেন ফরিদুর রহমান। বইটি পড়তে পড়তে হারিয়ে গিয়েছিলাম, আল ফাইয়ুমের ধুসর মরু প্রান্তরে, কারুন হ্রদ ফসিল এন ক্লাইমেট চেইঞ্জ মিউজিয়াম, তিউনিস এর সিরামিক ভিলেজে, ম্যাজিক লেকে জলের অনিন্দ্য সুন্দর জলপ্রপাতে মরুদ্যানে। এইসব অসাধারণ স্থানগুলোসহ ভিন্ন এক মিশর দেখেছেন লেখক আর কাতরানির ডেজার্ট ক্যাম্পে, তিনি পাখা মেলেছেন অবাক চোখে ভুমধ্যসাগরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাইতবে দূর্গে আর বিশ্ব খ্যাত গ্রন্থাগারের সংগ্রহশালায়।ভূমধ্যসাগর যেখানে বাতিঘরবিহীন।’আসোয়ান থেকে প্রমোদতরী ‘টুইয়া’ নীলনদ ধরে ভেসে চলে ফারাওদের ওপেন এয়ার রাজধানী ‘লুক্সরে’র পথে।
চলতে চলতেই প্যাপিরাসের পাতা উল্টিয়ে দেখা হয়ে যায়
আবু সিম্বেল, ফিলাই, এদফু,কোম–ওম্বো, কর্ণাক, ও সিটি অফ কিংস এন কুইন্স। “চমৎকার লেখা প্রচ্ছদ বর্ননা।মিশর নিয়ে পড়া হয়েছে বিস্তর
“প্যাপিরাসের পুরনো পাতা” ফরিদুর রহমানের অনন্য সৃষ্টি।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটা গাইড বইটি। আমার জন্য আরও ভালো লাগা৷ যখন দেখি পিরামিড এর নাম রঙ মাপ বর্ণনা সব ই আছে এ বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে।
আর আছে বিভিন্ন রকম প্রাচীন খাবার এর বর্ননা।ছোলা দিয়ে বানানো চা, হামুস আমার প্রিয় একটা খাবার ছোলা চা অভাবনীয়। মসজিদে বসে ‘শিশা’ নামে নলওয়ালা হুকা টানা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার এখানে। লেখক চা’কফি পান করেছেন বন্ধুদের নিয়ে দু’শ বছর আগের
ক্যাফেতে ‘এল ফিসাবি’। মিশরের বুদ্ধিজীবি, লেখক শিক্ষকদের আড্ডা এখানে নোবেলজয়ী নাগিব মাহফুজ এর স্মৃতি রক্ষার একটা কক্ষ রয়েছে এই রেস্তোরাঁ কাম ক্যাফেতে।
নাগিব তার “কায়রো ট্রিলজি” এখানে বসেই লিখেছিলেন, ঘরটি তেমনই অগোছালো রয়েছে যেমন ছিল, রেস্তোরাঁ কতৃপক্ষ আকরাম আল ফিসাবি ইন্টারভিউ এ বলেছেন, ” আমরা নতুন করে কিছু সাজাতে চাইনা, রেস্তোরাঁ নয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছি আমরা,” যা অনবদ্য দলিল। এল ফিসাবি তে কয়েকজন বেহালা বাজিয়ে গান করছেন, এটি দু’শ বছরের সঙ্গীতশিল্পী আঁকিয়ে সবার মিলনক্ষেত্র।
লেখক “আসোয়ান হাইড্যাম “বাঁধ দেখেছেন তার দারুণ বর্ননা দিয়েছেন, প্রথম বাঁধটি ১৯০২ সালে নির্মিত হয়েছিল।সেই সাফল্য থেকে
১৯৫২ সালে বিপ্লব পরবর্তী গামাল আব্দুল নাসের সরকার এর লক্ষ্য ছিল এই বাঁধ নির্মান। চাষাবাদের পানি ধরে রাখা, বন্যা নিয়ন্ত্রন, এবং জল –বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মিশরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, এবং নীল নদের পানির সবচেয়ে বেশি এবং যথাযথ ব্যাবহার অপরিহার্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজনীয় হয়েছিল। মিশরের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের গাঁটছড়া বাধা মিশরের সামগ্রিক অগ্রগতির কাল।আসোয়ান বাঁধ নির্মানের এক পর্যায়ে নীলনদে জল প্রবাহিত হয়েছে ভিন্ন খাতে দিকে। এই আনুষ্ঠানিকতায় প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভ বলেছিলেন ” আসোয়ান বাঁধ পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য “।
“প্যাপিরাসের পুরনো পাতায়” রয়েছে পাতায় পাতায় ছবিসহ বর্ণনা। আর রোমাঞ্চকর জলযানের বৈঠকে সমৃদ্ধ সময়। সেই সুন্দর সময় ছাড়াও লেখক কখনো প্রাচীন সভ্যতায় অলি গলিতে থমকে দাঁড়িয়েছেন, পিরামিডের দোরগোড়ায় এসে ভেবেছেন ভিতরে কেন যাবেন সব মৃত্যুর সভা এখানে। বালুতে হারিয়ে গিয়েছেন, সকালের সূর্য্য মরুভূমির প্রখর রোদে দেখে নিজের নির্মলতায় আপ্লুত হয়েছেন। আবার মিউজিয়াম ঘুরে আরেক পৃথিবীর সভ্যতায় বিলীন হয়েছেন।
“আনন প্রকাশন” প্রকাশিত
প্রচ্ছদ –মনিরুজ্জামান পলাশ
মলাট মুল্য–৪৪০
অমর ২১শে বইমেলা
ষ্টল নং, ২১৭
(এছাড়াও রকমারি ডটকমেও বইটি পাওয়া যাচ্ছে)

বুক রিভিউ: লেখক আর্শিনা ফেরদৌস
সংবাদ লাইভ/সাহিত্য/বুক রিভিউ/আর্শিনা ফেরদৌস


