ইমরুল কায়েস মির্জা কিরণ: বাংলায় আধুনিক সাংবাদিকতার ইতিহাস শুরু ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত জেমস অগাস্টাস হিকির বেঙ্গল গেজেট প্রকাশনার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ টি। বাংলাদেশে টেলিভিশন যাত্রা ১৯৬৪ সালে শুরু হলেও স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্র চালুর মধ্য দিয়ে ১৯৩৯ সালে শুরু হয় রেডিও যাত্রা। সরকারি এবং বেসরকারি বার্তা সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাস কমিউনিকেশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর- এসব সরকারি সংস্থার সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় আধিপত্য বিস্তারকারী অন্যতম প্রযুক্তি হলো ইন্টারনেট। এই প্রযুক্তি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অনলাইন সাংবাদিকতার ইন্টারনেট একটি নতুন ধারা চালু করেছে। প্রচলিত সাংবাদিকতায় বাস্তব ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, চলমান ঘটনা প্রবাহের বিবরণ ইত্যাদি উপস্থাপনার মাধ্যম সংবাদপত্র, রেডিও এবং টেলিভিশন ক্রমান্বয়ে অনলাইনের দিকে ঝুঁকছে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৬২ সালে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউটগুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার উপর শতাধিক কোর্স চালু হয় ১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান প্রেসক্লাব হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ৫ মার্চ ওই কাবের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় প্রেসক্লাব রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা তথা দেশব্যাপী গড়ে ওঠে সংবাদিকতা সম্পর্কিত বহু সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় সাংবাদিকতার চর্চা। সাংবাদিকতার উপর কোনো কোর্স না থাকলেও উপমহাদেশের কৃষি শিক্ষার প্রধান বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সাংবাদিকতা চর্চায় পিছিয়ে থাকেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বাকৃবিসাস) আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠিত এ সাংবাদিক সমিতি সম্প্রতি তার হীরকজয়ন্তীতে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এ ৬০ বছরের পথচলায় সংগঠনটির সঙ্গী হয়েছে বহু সাংবাদিক। তাঁদের লেখনীতে কৃষি সাংবাদিকতার নতুন দ্বার উন্মোচিত করে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অবদান রেখে চলছে তারা।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্যাটেলাইট নির্ভর মিডিয়ার বিস্তৃতি বর্তমান সময়ের মত সহজলভ্য না হওয়ায় পত্রিকাই ছিল তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম। সাংবাদিকতা ছিল কাগজ, কলম, নোটবুক আর ম্যানুয়াল ক্যামেরা নির্ভর। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কোন বাহক কিংবা ফ্যাক্সের মাধ্যমে পত্রিকা অফিসে তথ্য পাঠিয়ে দেশের মানুষের কাছে কৃষি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশের খাদ্য ঘাটতি থেকে বর্তমান খাদ্য-শস্য উদ্বত্তের যে সফলতা তার পিছনে বাকৃবির অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা ও আবিষ্কার মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে প্রয়োগের জন্যে দেশের কৃষকের মাঝে সকল তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মত গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে বাকৃবিসাস।
হীরকজয়ন্তীতে শুভ কামনা প্রাণের এ সংগঠনের প্রতি। বাকৃবিসাস শিখিয়েছে কিভাবে পড়াশুনার পাশাপাশি লেখনীর মাধ্যমে নিজের প্রতিভা বিকাশ করে সমাজকল্যাণ ও জনসেবায় নিয়োজিত হওয়া যায়। এ সংগঠনের প্রতিটি সদস্য সুনামের সাথে দেশব্যাপী নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রেও মেধার স্বাক্ষর রেখে চলছে।
স্বাধীনতা উত্তর কয়েক দশকে রাজনীতির বাইরেও মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে গণমাধ্যম ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের গর্বিত অংশীদার হয়ে পাশে থাকবে বাকৃবিসাস, সে প্রত্যাশাই রইলো।
লেখক: সহকারী প্রকৌশলী, বিএডিসি ও সাবেক সভাপতি, বাকৃবিবাস।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com