বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষ এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান তারা।
একদিকে প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা, অন্যদিকে স্নাতক কৃষিবিদদের অধিকার রক্ষায় ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অনুষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিল নিয়ে আব্দুল জব্বার মোড় ও দেবদারু সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবন সংলগ্ন করিডোরে আসেন তারা। সেখানে তারা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘শাহবাগ ও যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় তাঁরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
তারা জানান, ৯ম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য থাকা ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা, ১০ম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য থাকা ১০০ শতাংশ কোটা বাতিল করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার বন্ধ করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এই তিন দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন বুয়েটের একার নয়। এটা প্রকৌশল (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার) শিক্ষার্থীদর ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনরত প্রকৌশলীদের পাশে থাকবেন।
এদিকে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেল পাঁচটায় কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির সামনে থেকে ‘কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমতলায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশ চলাকলীন শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশে যেকোনো যৌক্তিক দাবি তুলতে গেলে রক্ত ঝরাতে হয়। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আজ রক্ত দিয়েছেন, অথচ এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের আন্দোলনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। আমরা বৈষম্যহীন নিয়োগ চাই। কৃষি খাতের সব বিভাগে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগ হোক। যোগ্য হলে তারা টিকবেই।’
এসময় কৃষিবিদদের অধিকার রক্ষায় ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। দাবিগুলো হলো- ডিএই, বিএডিসি ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১০ম গ্রেডের পদ কৃষিবিদদের জন্য উন্মুক্ত করা; ডিএই ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদবৃদ্ধি নিশ্চিত করা; নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে কোনোভাবেই ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ না দেওয়া; ১০ম গ্রেডের পদগুলো স্বতন্ত্র পদসোপানে রাখা; কৃষি বিষয়ক ডিপ্লোমাধারীদের জন্য কোনো নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না করা; এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ ‘কৃষিবিদ’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবে না এবং এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা।


