ফজলুল করিম সিয়াম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) দেশের অন্যতম স্বনামধন্য কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে সেমিস্টার বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীদের হতাশা এবং উদ্বেগের বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের প্রথম সেমিস্টার শেষ করতে পারেনি, যা প্রায় আট মাস ধরে চলছে। এই দীর্ঘ বিলম্ব শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের আগমন ঘটলেও ক্লাস শুরু হতে লেগেছে প্রায় পাঁচ মাস, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক। একদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পূর্ববর্তী ব্যাচের সেমিস্টার শেষ না হওয়া যেমন ক্লাস শুরুর দেরির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, অন্যদিকে মহামারী পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাও উঠে আসছে।
২০২০ সালের মহামারীর প্রভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাকৃবির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সময়মতো শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, বাকৃবির শিক্ষার্থীরা এখনো প্রথম সেমিস্টারেই আটকে আছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও সেমিস্টারের বিলম্বের পিছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
শিক্ষার্থীরা যখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সেমিস্টারে অবস্থান করতে দেখে, তখন তাদের মনে হতাশা সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। এই দীর্ঘমেয়াদী বিলম্ব শুধু তাদের শিক্ষাজীবনেই প্রভাব ফেলছে না, বরং তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎকেও বিপর্যস্ত করছে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, এবং সঠিক সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে না পারা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিৎ শিক্ষার্থীদের এই হতাশা ও মানসিক চাপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা। শিক্ষার্থীরা যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, তবে তা তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই, কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শিক্ষার্থীদের হতাশা থেকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌলিক দায়িত্ব। বাকৃবি প্রশাসনের উচিত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সেমিস্টার পরিকল্পনায় আরও সচেতন হওয়া। পাশাপাশি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আর এমন অনিশ্চয়তায় না ভোগে। শিক্ষার্থীদের হতাশা নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ


