বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসজুড়ে। শিক্ষার্থীদের মতে, একের পর এক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে গভীর শোক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে মারা যান শহীদ নাজমুল আহসান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবরার নোমান (২০১৯–২০), যিনি কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম।
প্রভোস্ট জানান, আবরার কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার বিকেলে তিনি চিকিৎসা নিয়ে হলে ফেরেন। পরে সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরও আগে গত অক্টোবর মাসে পশুপালন অনুষদের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী জাকারিয়া হোসাইন সাঈদ মারা যান। ২২ অক্টোবর দিবাগত রাতে স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়। থাইল্যান্ডে ইন্টার্নশিপ করার সময় তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু—আপন ও রাব্বি—বাইক দুর্ঘটনায় আহত হন। দেশে ফিরে সাঈদ বাহ্যিক ইনজুরির চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে হঠাৎ স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন। রাব্বি দেশে চিকিৎসাধীন এবং আপন এখনো থাইল্যান্ডে গুরুতর অবস্থায় আছেন।
আরও আগে, ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বাকৃবির আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান। তিনি ২০১৬–১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। কৃষি অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করে কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁ সদরে।
একাধিক ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন ধারাবাহিক মৃত্যু বাকৃবি পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর বেদনার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিটি ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে।


