বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ২১ দিন ধরে বন্ধ। গত ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড (বিএসসি ইন ভেট অ্যান্ড এএইচ) ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগতরা হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে সেশন জটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) টানা ২১ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদ এবং একটি ইনস্টিটিউটে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।
জানা যায়, ক্লাস পরীক্ষা আবার চালুর বিষয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তা কোনো ফলপ্রসূ সমাধান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে সেশন জটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে চাকরি জীবনে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করবে। আশা করি, প্রশাসন দ্রুত এ সংকটের সমাধান করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আবার শুরু করবে।’
ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী আফছানা মৌ বলেন, ‘করোনার সময় একাডেমিক বিরতির কারণে আমরা এক বছরের বেশি সময় ধরে পিছিয়ে আছি। এর মধ্যে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এভাবে সেশন দীর্ঘ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। আমরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চাই এবং পরীক্ষা দিতে চাই। প্রশাসন যেন দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান করে।’
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলমান। অ্যাকাডেমিক সেশন জট যাতে তৈরি না হয় এবং কীভাবে দ্রুত সেমিস্টার শেষ করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা চাই না শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেমিস্টারের বিড়ম্বনায় পড়ুক। উদ্ভূত সংকট সমাধান করে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে ইতিবাচক। শিগগিরই একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে জানানো হবে।’


