ads
ঢাকাসোমবার , ১৯ আগস্ট ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের কৃষি উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

সংবাদ লাইভ
আগস্ট ১৯, ২০২৪ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. মানছুর রহমান:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান, যা দেশের কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা পালন করছে। ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই থেকে দেশের কৃষিক্ষেত্রে গবেষণা, শিক্ষাদান এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে, বাকৃবি বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির অবক্ষয়, এবং ক্ষুদ্র চাষীদের সমস্যা সমাধানে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা প্রথমে অনুভূত হয় যখন জাতির কৃষি উৎপাদনশীলতার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পাকিস্তান আমলে, দেশের কৃষি শিক্ষার মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব বিষয় মাথায় রেখে, ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ শহরের কাছে বাকৃবির প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি তখন থেকে কৃষি বিজ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকশিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল কৃষির বিভিন্ন শাখায় উচ্চতর শিক্ষাদান এবং গবেষণার মাধ্যমে কৃষি পদ্ধতির উন্নতি সাধন করা।

বাকৃবি সবসময়ই গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অতি স্পর্শকাতর দেশে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কৃষি উৎপাদনের উপর অত্যন্ত মারাত্মক, সেখানে বাকৃবির গবেষণা কৃষকদের জন্য নতুন উপায় এবং সমাধান প্রদান করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষণা দল জলবায়ু সহনশীল ধান, গম এবং অন্যান্য ফসলের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে, যা দেশের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে এবং মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করছে। মাটির অবক্ষয় একটি বড় সমস্যা, যা বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে। বাকৃবির গবেষকরা নতুন ধরনের সার এবং মাটির যত্নের পদ্ধতি উদ্ভাবন করছেন, যা এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে পাশ করা গ্রাজুয়েটরা সুনামের সাথে দেশে ও বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা সরকারি, বেসরকারি, এবং কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে অবদান রাখছেন। কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাদের কাজ দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং কৃষি উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা দেশের কৃষিক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে ক্ষুদ্র কৃষকদের উপর নির্ভরশীল, যাদের বেশিরভাগই সীমিত সম্পদের মধ্যে কাজ করেন। বাকৃবি ক্ষুদ্র চাষীদের সাহায্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যেমন উন্নত জাতের বীজ বিতরণ, কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহ, এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ। এতে তারা আরও উৎপাদনশীল হতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে তাদের জন্য উপযোগী প্রযুক্তি এবং পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে, বাকৃবি কৃষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এটি বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে। বাকৃবি ভবিষ্যতে আরও নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে তারা বিভিন্ন উচ্চমানের গবেষণার উপর জোর দিচ্ছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টি টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে মনোনিবেশ করছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের কৃষিক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এখনও করছে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকদের জীবিকা উন্নত করতে সহায়ক হচ্ছে।

লেখক: কৃষিবিদ

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।