ads
ঢাকাসোমবার , ২১ অক্টোবর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে জলবায়ু অর্থায়নে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২১, ২০২৪ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার প্রেক্ষিতে, জেসিআই ঢাকা মেট্রো এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি), “জলবায়ু অর্থায়ন: বাংলাদেশের দাবী এবং উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করে । এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা।

‘দ্য ডেইলি স্টার’ ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ কর্মী, বিশিষ্ট  নীতিনির্ধারক কর্মী এবং যুবনেতারা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় উঠে আসে, কীভাবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আলোচনা ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঝুঁকি
বিশ্বের মোট কার্বন নির্গমনের মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ প্রথমসারির দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বাস করে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সাইক্লোন এবং বন্যার মতো জলবায়ু দুর্যোগের আওতাধীন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC) ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০ মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশিকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে এবং সেই সাথে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭ শতাংশকে তলিয়ে নিতে পারে।

দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষি খাতে নিযুক্ত থাকায়, জলবায়ু পরিবর্তন খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। গবেষণায় দেখা গেছে, আবহাওয়ার অনিয়মিত পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে চালের উৎপাদন ৮ শতাংশ এবং গমের উৎপাদন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য অভিযোজনের জরুরি প্রয়োজনকে স্পষ্ট করে তুলে ধরে।

জেসিআই ঢাকা মেট্রোর প্রেসিডেন্ট মোঃ শরিফুল ইসলাম অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী বক্তৃতায় করে বলেন, “বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে জলবায়ু অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত টেকনিক্যাল এক্সপার্ট কমিটির সদস্য ড. সুবর্ণ বরুয়া তার মূল বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ কীভাবে জলবায়ু অর্থায়নের সুবিধা গ্রহণ করে জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে, তা এখনই আলোচনায় আসা অত্যন্ত জরুরী।”

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ফারাহ কবীর বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের যথাযথ অর্থায়ন পাওয়া অপরিহার্য।”

সভার পুরোটা জুড়েই ছিল উন্নত দেশগুলোর থেকে আরো বেশি জলবায়ু অরথায়নের প্রতিশ্রুতি ও ন্যায্য অর্থ বিতরণের দাবি আদায়ের প্রয়োজনীয়তা।

অভিযোজন স্থিতিশীলতার জন্য জলবায়ু অর্থায়ন: একটি বাঁচার সোপান
বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বার্ষিক ৫.৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, তবে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন থেকে বর্তমানে এর মাত্র  ক্ষুদ্র একটি অংশই পাওয়া হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হল, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থের প্রায় ৯০ শতাংশ নির্গমন হ্রাস প্রকল্পে (mitigation) এবং মাত্র ১০ শতাংশ অভিযোজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়, অথচ বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রভাব মোকাবেলায় অবিলম্বে অভিযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড শরীফ জামিল বলেন, “জলবায়ু অর্থায়ন শুধু প্রয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য ব্যাপার। এখনই এতে পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। আমরা আর অপেক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই।”

ইউএন উইং, ইআরডি-র অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল বলেন, “আসন্ন কপ (COP) সম্মেলন ২৯ এ, বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ আছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় সকল সুপারিশ ও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি।”

আরডিআরসি-র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজাজ বলেন, “যুবাদের জন্য জলবায়ু অর্থায়নের প্রাপ্তি সহজ করতে হবে। তরুণরা এই আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছে, তাই তাদের জন্য অর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞ প্যানেলিস্টদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ড. মঞ্জুরুল হান্নান খান, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার। তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।

যুব প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ল’ থিংকার্স সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাওমান স্মিতা, অক্সফাম বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অফিসার রুবাইয়া নাসরিন সেঁজুতি, ইউএন ক্লাইমেট চেঞ্জ পিসিসিবি নেটওয়ার্কের যুব বিশেষজ্ঞ আশিক ইকবাল, যমুনা টিভির রিপোর্টার রায়হান ফেরদৌস, স্পৃহা ফাউন্ডেশনের হেড অফ গ্রোথ হালিমা তুস সাদিয়া। তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণদের অবদানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি ইভেন্টের সমাপনী বক্তব্যে সম্মেলনের আলোচনা উপস্থাপন করেন এবং বাংলাদেশের জলবায়ু অর্থায়নের এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চলমান সংলাপ এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান। ইভেন্ট শেষে অংশগ্রহণকারী তরুন যুবারা জলবায়ু রক্ষা ভূমিকায় তাদের ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সকল অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এ সম্মেলনটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়, যা জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াইয়ে বৈশ্বিক সহায়তা প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সাহায্য করবে।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।