যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যাপিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড.শুচিতা শারমিনের নেতৃত্বে এক প্রভাতফেরি সহকারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগ, বিজয়-২৪ হল, শেরে বাংলা হল, তাপসী রাবেয়া বসরী হল, কবি সুফিয়া কামাল হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে শহীদ দিবস উদযাপন কমিটি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে বেলা ১০:৩০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শারমিন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,আমরা যখন ভাষা দিবসের কথা বলি তখন অন্যভাষার প্রতিও আমাদের শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়। সে জায়গা থেকে আমাদের দেশে যত আঞ্চলিক ভাষা আছে, বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীয় ভাষা রয়েছে সেগুলোকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। যা আমাদের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে। নিজেদের দেশ, নিজেদের মানুষ হিসেবে আমরা যেভাবে বাংলাকে ধরে রাখব তার ভিতর দিয়েই বাংলা ভাষার প্রকাশ হবে। তার ভিতর দিয়েই বাংলা ভাষার বিকাশ হবে।
এসময় আরো বলেন, উচ্চশিক্ষায় যত বেশি বাংলায় অনুবাদকৃত বই আমরা পাবো, উচ্চশিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সহজ হবে। যার ফলে উচ্চশিক্ষায় তারা আরও অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পারবে।
মহান শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী। অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আইন অনুষদের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রাধ্যক্ষ শারমিন আক্তার, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা অফিসের পরিচালক সুজন চন্দ্র পাল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাইদুর রহমান ও আসমা খানম।
ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রজ্ঞা পারমিতা বোসের সঞ্চালনায় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি ও কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়।


