নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. জাকারিয়া আলম জিকুর বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। গত ২৪ ডিসেম্বর বস্ত্র অধিদপ্তরের এক অনৈতিক নোটিশে তাঁর বদলির আদেশ দেওয়া হয়। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং দ্রুত এই আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট দুর্নীতির অভিযোগে নোয়াখালী ও জোরারগঞ্জ, চট্টগ্রামের সাবেক অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ও আলী আজম রোকন পদত্যাগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বস্ত্র অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। কমিটি একবার জোরারগঞ্জ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করলেও নোয়াখালীর বিষয়ে কোনো তদন্ত কার্যক্রম চালায়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, জাকারিয়া আলম জিকু ও সাইফুল ইসলাম স্যারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকার কারণে সাবেক অধ্যক্ষরা এই বদলি আদেশের পেছনে কাজ করছেন। তারা প্রশাসনকে ভুল পথে পরিচালিত করে এই আদেশ দিয়েছেন, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং তাঁরা নিজেদের দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতে পারেন।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই আদেশ বাতিল করা না হলে নোয়াখালী ও জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ওয়েট প্রসেসিং ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক শূন্যতা দেখা দেবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তাঁরা আরও জানান, আদেশ বাতিল না হলে কলেজের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া লেভেল ১ টার্ম-২ পরীক্ষাও ব্যাহত হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও শাটডাউনের ঘোষণার কারণে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট সমাধানের জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবি নিয়ে বস্ত্র অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


